নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৫৮ পিএম
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এখন নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের বিদায় করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘আপনারা অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। কারণ আপনাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।’
আরও পড়ুন: ৪৭ কিলোমিটার হেঁটে সমাবেশে, ঝামেলা এড়াতে যোগ দিয়েছেন লুঙ্গি পরে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল পালন করেছিল জানিয়ে ফখরুল দাবি করেন, আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিন দিন ধরে সমস্ত কিছু বন্ধ করে দিয়েছে। দুই দিন ধরে বাস বন্ধ করে দিয়েছে, নৌপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের যে সংগ্রাম, তাতে বাধা দিতে পারেনি। প্রশাসনকে ব্যবহার করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যায় না। আজকে সেটা আবার প্রমাণ হয়েছে।’
সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, আমাদের বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ দলীয়করণ করেছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিয়েছে, মানুষ সেবা পায় না।’
আরও পড়ুন: গণসমাবেশ ঠেকাতে সরকার যা করেছে তা কলঙ্কজনক: রিজভী
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যদি আমরা জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন করতে পারি এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন টিকব্যাক বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নিয়ে আসো, কোন বাংলাদেশ? বাংলাদেশের জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। সমৃদ্ধির বাংলাদেশ, মানবিকের বাংলাদেশ, মানবাধিকারের বাংলাদেশ, ভালোবাসার বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশকে ফিরে পেতে চাই।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে যদি রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব পাই তাহলে তরুণ যুবকদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করব। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, চাকরির ব্যবস্থা করব। ন্যায়বিচার করার ব্যবস্থা করব। আর যারা মেগা প্রযুক্তির নামে মেগা দুর্নীতি করেছে তা তদন্তের কমিশন গঠন করব।’
আরও পড়ুন: কৌশলে খুলনায় পৌঁছে বিএনপি কর্মীদের নির্ঘুম রাত কাটল সড়কে
জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপক্ষে সরকারের দাবিতে বিভাগীয় (দলের সাংগঠনিক বিভাগ) পর্যায়ে সমাবেশ করছে বিএনপি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন করেছে দলটি।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমই/জেবি