একাধিক দাবিতে বিএনপির বিভাগীয় তৃতীয় সমাবেশ হচ্ছে খুলনায়। শনিবারের (২২ অক্টোবর) সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাস। পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লঞ্চ। তবুও রিকশা-ভ্যান, সিএনজিতে করে যে যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন নানা কৌশলে খুলনায় পৌঁছেছেন। অনেকে আবার লম্বা পথ পায়ে হেঁটে যোগ দিয়েছেন। ফলে সমাবেশের আগের রাতে খুলনায় পৌঁছানো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে খুলনার সড়কে।
খুলনায় পৌঁছানো নেতাকর্মীদের কেউ কেউ রাতে থাকার জন্য বালিশ-কাঁথা, চাদর সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
কেউ আবার গামছা বিছিয়ে সড়কে শুয়ে রাত কাটিয়েছেন।
অন্যদিকে খাবারের সংকটের কথা মাথায় রেখে শুকনো খাবার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, চলমান আন্দোলনে বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার প্রতিবাদ, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিএনপির গণসমাবেশ সফল করতে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে খুলনা অঞ্চলে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, ময়মনসিংহে সমাবেশের আগে বাস বন্ধ করে দেওয়ার পর খুলনা নিয়ে আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল।
সবাইকে আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া ছিল- প্রত্যেকে এক বোতল পানি ও শুকনা খাবার সঙ্গে নিয়ে রওনা দেবেন।
এদিকে সমাবেশকে ঘিরে শুরুতে বন্ধ করা হয় বাস। বিএনপির অভিযোগ সরকারি দলের ইন্ধনে এটি করা হয়েছে।
যদিও বাস মালিকরা মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে বাস চলাচল বন্ধের দাবি করেছে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার থেকে খুলনা বিভাগে ১৮ রুটে বাস চলাচল বন্ধ। এ কারণে সাতক্ষীরার বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বৃহস্পতিবার থেকে খুলনায় অবস্থান নিতে শুরু করেন।

তবে বাস মালিকদের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা-খুলনা রুটের বাস ঢাকা থেকে যশোর ও গোপালগঞ্জ পর্যন্ত চলছে। সাতক্ষীরামুখী যেসব বাস যশোর হয়ে চলে, সেগুলো চলছে। তবে যেগুলো খুলনা হয়ে চলে, সেগুলো বন্ধ রয়েছে। মূলত খুলনায় কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে ও খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটে গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে না।
এদিকে শুধু বাস নয়, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লঞ্চ চলাচলও। বেতন বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে এ ধর্মঘট ডেকেছে নৌ-যান শ্রমিকরা।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে খুলনা লঞ্চ টার্মিনাল থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। ফলে খুলনা থেকে দক্ষিণ দিকে (দাকোপ, কয়রা, সাতক্ষীরা) যাওয়ার সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া হলে যেকোনো মুহূর্তে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে। এর সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।
রাত ১০টায় দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শত শত নেতা-কর্মী সমাবেশস্থলে যান। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবেশস্থলে পরিদর্শন করে হোটেলে যান। এরপর সেখানে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
বিইউ/এএস




