Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

ঢাকাকে বসবাসযোগ্য নগরী গড়তে নেতৃত্বের আমূল পরিবর্তন দরকার: সাদেক কায়েম

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে বসবাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নেতৃত্বের আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদেক কায়েম।

তিনি বলেছেন, নগরীর হাটবাজার, পার্ক, খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টার দখল হয়ে আছে। অন্যদিকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদের দুই যুগ পূর্তি উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সাদেক কায়েম বলেন, এই নগরকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাইলে এমন নেতৃত্ব দরকার, যাদের সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতা রয়েছে। আমরা যখন এই নগরের সেবা করার সুযোগ পাব, তখন পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ঢাকা নগরী গড়ে দেখাব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রায় ৫০ লাখ নাগরিক বসবাস করেন। কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও বিনোদনকেন্দ্র নেই। নগরীতে প্রায় ৩০টি খেলার মাঠ ও ১৮টি পার্ক থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলো দখল হয়ে আছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। জিমনেসিয়াম, পাবলিক লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার ও হাটবাজারের মতো নাগরিক সুবিধার প্রতিষ্ঠানগুলোও দখলের কবলে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, নগরী পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কার্যকর পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তাদের চিন্তা নগরের উন্নয়নের পরিবর্তে দখলদারত্ব, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে ঘিরে। ডেঙ্গুর প্রকোপ, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে রাখা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।

ডাকসু ভিপি বলেন, এই নগরের ৫৫ বছরের বঞ্চনা দূর করতে হলে নেতৃত্বের আমূল পরিবর্তন দরকার। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নগরবাসীর ওপর যে জুলুম করা হয়েছে, সেই মাফিয়াতন্ত্র আমরা চিরতরে বন্ধ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রতিবছর ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ থাকে। এর বাইরে নাগরিকদের দেওয়া কর থেকেও অর্থ আসে। কিন্তু এসব অর্থের সঠিক বণ্টন ও ব্যবহার না হওয়ায় নগরীর মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করা গেলে নাগরিক সেবার মান বাড়ানো সম্ভব।

ডাকসুতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন সমস্যা সমাধান এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে তারা কাজ করেছেন। বরাদ্দের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি কাজ করার দাবি করে তিনি বলেন, ডাকসুর দায়িত্ব পালনকালে তারা কোনো ধরনের অনিয়ম করেননি এবং ভিপি, জিএস ও এজিএস হিসেবে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধাও গ্রহণ করেননি।

বক্তব্যে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়েও কথা বলেন আবু সাদেক কায়েম। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এখনো আসেনি। দেশে এখনো সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদী চর্চার নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আরেকটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে ইসলামি সংস্কৃতিকে বিভিন্নভাবে হেয় করা হয়েছে। দাড়ি-টুপি ও ইসলামি সংস্কৃতির পরিচয়কে ট্যাগিং এবং অবমূল্যায়নের শিকার হতে হয়েছে। অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদ এ সময়ে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রেখেছে। জুলাই বিপ্লবেও সংগঠনটির সাংস্কৃতিক কর্মীদের গান, স্লোগান ও দেয়াললিখন আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছে।

কায়েম বলেন, আমার কাছে মনে হয়, এক হাজার ঘণ্টা বক্তৃতার চেয়ে একটি গান অথবা একটি কবিতার প্রভাব অনেক বেশি।

তিনি অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য দোয়া করেন।

জুলাই-পরবর্তী প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ডাকসু ভিপি বলেন, বিপ্লবের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের জনরায় কার্যকর এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্রের রাজনীতির অবসান ঘটবে। কিন্তু নতুন মোড়কে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, এই নব ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই বিপ্লবসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন আবু সাদেক কায়েম। বিশেষ করে শহীদ আনাস, শহীদ আলী রায়হান, শহীদ আব্দুল্লাহ আল তাহির, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ জুনায়েদ ও শহীদ আলিফের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় শহীদ আনাসের লেখা একটি চিঠির কথাও তুলে ধরেন।

এমআর/এএম