Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

সরকার মবকে নিয়ন্ত্রণ করে, নাকি মব সরকারকে: শামীম পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, সরকারকে দেখাতে হবে তারা মবকে নিয়ন্ত্রণ করে, মব তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে না। এ ধরনের হামলার মাধ্যমে সরকারের দুর্বলতাই প্রকাশ পাচ্ছে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বর্তমান সরকার বেশিদিন দেশ পরিচালনা করতে পারবে না।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে উত্তরায় দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আজকের এই কাপুরুষোচিত হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, এই হামলার মাধ্যমে বর্তমান সরকার তাদের দুর্বলতাই দৃশ্যমান করছে। সরকারকে দেখাতে হবে, তারা মবকে নিয়ন্ত্রণ করে; মব সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

সরকারের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা মনে করি, এই সরকারও বেশিদিন দেশ চালাতে পারবে না।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে সব দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ কামনা করেন।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমরা আশা করব, বর্তমান সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করবে।

রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন অত্যন্ত বিদগ্ধ ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা রাষ্ট্রপতিকে বলব, আপনি সব রাজনৈতিক দলকে ডাকুন, তাদের অভিমত শুনুন এবং সমস্যার সমাধান করুন। আপনি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি। আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, শুধু সরকারের রাষ্ট্রপতি নন।

সরকারের গত এক মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, এ সময়ের মধ্যে দেশের কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। কোনো সংস্কারও দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। সার, গ্যাস ও তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি, গত এক মাসে দেশে কোনো সংস্কার হয়নি। দেশের কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। দ্রব্যমূল্য হু হু করে বাড়ছে। সার পাওয়া যাচ্ছিল না, গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না, তেল পাওয়া যাচ্ছিল না।

দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, গ্যাসের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, চালের দাম বেড়েছে। এই সরকারের সাফল্য একটাই, প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এখন পর্যন্ত কোনো জিনিসের দাম সরকার কমাতে পারেনি।

দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সরকারকে জনবান্ধব হতে হবে। মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।

এ সময় গণহত্যায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি জানানোর আহ্বান জানিয়ে জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, অসংখ্য সাংবাদিক এখনও কারাগারে আছেন। বিনা বিচারে তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাও এখনো কারাগারে আছেন। তাদেরও বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা তো এই বাংলাদেশ চাইনি। আমরা একাত্তরের বাংলাদেশ চাই, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চাই, জনগণের বাংলাদেশ চাই। আমরা যদি সেই বাংলাদেশ না পাই, তাহলে এ দেশের মানুষ আবারও ঐক্যবদ্ধ হবে, ইনশাআল্লাহ।

বক্তব্যের শেষ দিকে জি এম কাদেরের বাসায় হামলার ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শামীম হায়দার পাটোয়ারী। একই সঙ্গে স্বল্প সময়ের নোটিশে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে সোমবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলার অভিযোগ ওঠে।

জি এম কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে ৫০ থেকে ৬০ জন যুবক তার বাসার সামনে জড়ো হয়ে উত্তেজনামূলক স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালান। এ সময় তাকে ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়েও স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার একাধিক ভিডিওতে একদল ব্যক্তিকে ‘ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ ও ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিয়ে বাড়িতে ইট নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানারও ছিল। এ সময় তারা জি এম কাদেরের গ্রেফতারের দাবি জানান।

হামলার পর জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় পরবর্তী করণীয় পরে জানানো হবে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, এতে কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এমএইচ/এফএ