নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ধর্ম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, তবে ধর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনা আলাদা বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি। তিনি বলেন, ধর্মের নামে ব্যবসা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল-পিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ধর্ম দিয়ে যদি রাষ্ট্র পরিচালনা করা যেত, তাহলে পাকিস্তান টিকে থাকত। পৃথিবীর কোনো দেশ শুধু ধর্মের ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকে না। একটি দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ভৌগোলিক সীমানাসহ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা নেতার হাত শক্তিশালী করলেই দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয় না। এজন্য আগে জনগণের ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জনগণ যত শক্তিশালী হবে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করাও তত সহজ হবে।
বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও সবসময় জনগণকে মাঠে নামানো সম্ভব হয়নি। তবে জনগণ যখন আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে, তখন তা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের শক্তিশালী করা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে জামায়াতকেও বাইরে রাখা হয়নি।
গয়েশ্বর বলেন, ২০ দলীয় জোট ভেঙে যায়নি; কৌশলগত কারণে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অবস্থান থাকলেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা অভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করলে তা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা চাই, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হোন। বিচারে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে ভালো; আর নির্দোষ প্রমাণিত না হলে আদালত যে রায় দেবে, তা মেনে নিতে হবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, দেশের জনগণও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি কোনো লাভ-লোকসানের হিসাব নয়; এটি সর্বোচ্চ ত্যাগের জায়গা। নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করে রাজনীতি করা উচিত নয়। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, তাদের আদর্শ ধারণ করতে হলে কৃত্রিমতা নয়, আন্তরিকতা প্রয়োজন। জনগণ যেন আস্থা রাখতে পারে যে, তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করেই পরবর্তী নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করছে।
দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। গয়েশ্বর বলেন, দেশের অর্থনীতি সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যাংকের অর্থ সরকারের নয়, জনগণের। অথচ অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা নিজেদের টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পিএনপি চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদিন ফারুক এমপি। আরও বক্তব্য দেন পিএনপির মহাসচিব আহমেদুর রহমান, ইসলামী ঐক্য ফোরামের আবদুল করিমসহ ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
এম/এআরএম