বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বিসিএস গেজেটে বাদ পড়াদের নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫ এএম

শেয়ার করুন:

বিসিএস গেজেটে বাদ পড়াদের নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের
সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ

৪৯তম (বিশেষ) বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়াদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে সবার সমান সুযোগের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি সামাজিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল।

তিনি লেখেন, জুলাই গণআন্দোলন প্রচলিত বৈষম্যমূলক সুযোগের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি ন্যায্যতার ভিত্তি তৈরি করেছে। এর অন্যতম শিক্ষা হলো—রাষ্ট্রীয় সুযোগকে কোনো রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের পুরস্কারে পরিণত করা যাবে না।

৪৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়াদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নাগরিকের যোগ্যতা, পরীক্ষার ফলাফল ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার বাইরে তার রাজনৈতিক পরিচয় যদি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জুলাইয়ের সেই সামাজিক ঐকমত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৭(১) ধারায় সরাসরি জনবল নিয়োগের ভিত্তি হিসেবে মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তার ভাষ্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছ ও আইনসম্মত নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। সেখানে একজন নাগরিকের যোগ্যতা মেধা, দক্ষতা ও আইনসম্মত যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, যে কেউ যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন কিংবা কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নাও থাকতে পারেন। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারযোগ্য।

হাসনাতের দাবি, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও চাকরি বাতিল করা হলে তা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে প্রশ্নের মুখে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সূচনালগ্নেই সরকারি চাকরিতে কোটা ও বৈষম্যমূলক সুবিধার বিষয়টি সামনে এসেছিল। পরে আন্দোলন বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, ফ্যাসিবাদ ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে বিস্তৃত হয়। তাই জুলাই-পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরিতে যোগ্যতার বাইরে রাজনৈতিক পরিচয় যদি সিদ্ধান্তের ভিত্তি হয়, তাহলে সেটি শুধু নিয়োগের বিষয় নয়; রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত। তিনি জানতে চান, নিয়োগের আগে বা পরে কোনো ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে কাউকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোন আইন বা বিধির অধীনে তদন্ত করা হয়েছে, কোন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেছে, কী তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং কী মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে—এসব জানার সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী নির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল কি না এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

তথ্য জানার অধিকার প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় প্রত্যেক নাগরিকের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। একই আইনের ৮ ধারায় তথ্য চাওয়ার পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আইনে কিছু তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, সরকারকে সব ভেরিফিকেশন তথ্য প্রকাশ করতেই হবে—এমন সরল দাবি না করে আইন অনুযায়ী যে তথ্য প্রকাশযোগ্য, তা কেন গোপন রাখা হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত। আর কোনো তথ্য প্রকাশযোগ্য না হলে সেই অস্বীকৃতির আইনগত ভিত্তিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

চাকরি বাতিল বা আটকে দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রথম দাবি হওয়া উচিত সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি, ব্যবহৃত মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট নথি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ। এরপর প্রয়োজন হলে তথ্য ও নথির ভিত্তিতে প্রশাসনিক প্রতিকার, আপিল এবং আদালতের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।

সবশেষে হাসনাত বলেন, জুলাইয়ের অন্যতম বড় শিক্ষা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে তার অধিকার ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেবে।

এম/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর