Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ-দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেছেন, ‘এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে যুব সমাজকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে এবং ‘চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে।’

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের সহকারী সেক্রেটারি বুলবুল হত্যার বিচার দাবি করে চরমোনাই পীর বলেন, দেশের সব হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম ও ধর্ষণ রুখে দিতে যুব আন্দোলনকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে কার্যকর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রমাণ হয়েছে, ইসলামের লেবেল লাগিয়ে যে দলটি মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে না, তার নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দেশের আদর্শিক যুবকদের অনুপ্রেরণার নাম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে— মুমিনরা বিজয়ী হবে। তাই মুমিনের গুণাবলি অর্জনে যুবকদের চেষ্টা ও সাধনা চালিয়ে যেতে হবে।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি দেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের জন্যও তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

কনভেনশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে মুফতী মানসুর আহমদ সাকীকে সভাপতি, আ হ ম আলাউদ্দীন ও অ্যাডভোকেট বায়েজিদকে সহসভাপতি এবং রহমাতুল্লাহ বিন হাবিবকে সেক্রেটারি জেনারেল করা হয়েছে।

কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী মানসুর আহমদ সাকী।

আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জানবাজি রেখে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীরা কাজ করেছেন। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সংগঠনের প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘স্রোতের বিপরীতে থেকে শরিয়ার পক্ষে আমরা কাজ করে গেছি। বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃত ইসলামপ্রেমী এবং ইসলামের মুখোশধারীদের চিনে ফেলেছে। তাই ইসলাম, দেশ ও মানবতাকে ধারণ করে আগামী বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণে যুব আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে ভাই ভাই হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, কেয়ামতের ময়দানে যে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া পাবে, তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো আদর্শবান যুবক। যুবকদের ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। যুবকরা জাগলে বৃহৎ বিশ্বও জেগে ওঠে।

তিনি বলেন, রুহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। আত্মার পরিশুদ্ধি ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা এলেও ইসলামের কোনো উপকার হবে না। তাই যুব আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে আদর্শবান, নীতিবান ও চরিত্রবান হতে হবে।

এমআর/এএম