জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের চিন্তা নেই। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আবেদন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, ইন্টেলিজেন্স এবং চলার পথের প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, আপনারা আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হবে নন-ভায়োলেন্ট, নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর—এ ধরনের কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি আমাদের ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।’
কর্মসূচিতে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সতর্ক করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ১১ দলের এই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ব্যাহত করে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ১১ দলকে বা জাতির কাছে কোনো ভুল মেসেজ দিতে চান, সাবোটাইজ করতে চান, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে আমরা এখন অনুরোধ করব, আপনারা এই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে ফিরে থাকবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না, অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’
দেশের রাজনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিরোধী দল সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে, দাবি আদায়ে প্রতিবাদ করে।
তিনি বলেন, ‘৭০ ভাগ লোকের হ্যাঁ ভোট দেওয়া গণভোটের রায়কে পৃথিবীর কোন ইতিহাসে নাই যে একটা রেফারেন্ডাম, একটা গণভোটের রায়কে নির্বাচনের পরে একটা সরকার বাতিল করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে।’
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের শীর্ষ বৈঠকে এটা আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না।’
মেজরিটির শক্তি প্রয়োগ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আপনার আছে বলেই মেজরিটি আছে বলেই আপনি কোরআন-সুন্নাহর আইনকে বদলে দিয়ে আইনের উপরে হস্তক্ষেপ করলেন। মেজরিটি নিয়ে সব করবেন আপনি?’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মেজরিটির শক্তিকে প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুদীর্ঘকালের আইনকে পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে আপনাকে শিক্ষা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই কিন্তু অনেকেই কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল। এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’
লংমার্চের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভা শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত জনসভা চলবে। এরপর গাজীপুর হয়ে রংপুর জেলা স্কুল মাঠের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা করবে।
রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা করে গাজীপুর-টঙ্গী হয়ে গাজীপুর বাইপাসের ভোগড়া এলাকায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর টাঙ্গাইল হয়ে নগর জালফৈ মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়েও পথসভা হবে। সেখানে দুপুরের দিকে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে এবং জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে।
এরপর লংমার্চ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিকে যাবে। সেখানে সন্ধ্যা বা মাগরিবের সময় পথসভা হতে পারে। তবে পথের পরিস্থিতির কারণে সময় কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে জানান তিনি। পরে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল গাড়িবহরের শেষে বিভিন্ন জেলার আগ্রহী নেতাকর্মীদের গাড়ি যুক্ত হবে।
বহরের সর্বশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা থাকবেন। আইটি ও মিডিয়া টিমও লংমার্চের সঙ্গে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘সবগুলোরই একটা সুশৃঙ্খল গাড়িবহরের মধ্য দিয়ে আমাদের এই লংমার্চের বহর ইনশাআল্লাহ যাত্রা করবে।’
লংমার্চের পথ ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলে আমরা পথে কোনো আলাদা রান্না করা খাবার বা ব্যবস্থা সম্ভব হবে না।’
এ কারণে প্রত্যেক গাড়িতে থাকা নেতাকর্মীদের নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার, পানি, ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান তিনি। পথে খাবারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা।
টিএই/এআরএম