নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এ মুসলমানদের সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার, হেবা ও মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহর বিধান অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের খাস কমিটির বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নেতারা বলেন, বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতার নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ভরণ-পোষণ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। পিতা-মাতার অধিকার ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রবীণ পিতা-মাতার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার, হেবা ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়গুলো মুসলিমদের জন্য ইসলামী শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তারা বলেন, নতুন কোনো আইন বা এর কোনো ধারা যেন পবিত্র কোরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জমিয়ত নেতারা বলেন, পিতা-মাতার জীবনকালীন অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হলে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে মুসলমানদের শরিয়াহসম্মত উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির মালিকানা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা যাবে না। বিশেষ করে হেবা ও মিরাসের বিধানকে পাশ কাটিয়ে এমন কোনো আইনি কাঠামো তৈরি করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ বা শরিয়াহবিরোধী সম্পত্তি বণ্টনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিলটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, ফকিহ, আলেম ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ শরিয়াহ বোর্ডের মাধ্যমে বিলটির প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জমিয়ত নেতারা বলেন, পিতা-মাতার অধিকার ও প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য শরিয়াহর মিরাস, হেবা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিও সম্মান দেখিয়ে আইনটি এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সামাজিক ও মানবিক সুরক্ষার পাশাপাশি কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাও সুরক্ষিত থাকে।
এমআর/এফএ