Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

প্রতিদিন গড়ে ১০ জন খুন সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, বিএনপির সরকারের গত ছয় মাসের শাসনামলে প্রতিদিন গড়ে দশজন করে মানুষ খুন হয়েছে। লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে, জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ছয়মাস সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব অনেক আশার বানী শুনিয়েছিলো। এক কোটি কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করেছিলো, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল। বিএনপি সরকার গঠনের পরে ছয়মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু তাদের দেয়া কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পাওয়ার ন্যূনতম লক্ষণও প্রকাশ পায় নাই। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।’

তিনি সরকারের গত ছয়মাসের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, ‘গত ছয়মাসে শুধু আরএমজি (তৈরি পোশাক) খাতেই বেকার হয়েছে ২০ হাজারের মতো মানুষ। প্রতিদিন গড়ে দশজন করে মানুষ খুন হচ্ছে। লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে, জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ছয়মাস সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়।’

চরমোনাই পীর বলেন, ‘মানুষ হত্যার পরে পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করলেও কোন বিচার হয় না। নিম্ন আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা হলেও সেই রায় আর কার্যকর হয় না, আদালতের অন্দরে বিচার পথ হারায়। অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিলো, অপরাধ সংগঠনের আগেই পুলিশ সক্রিয় হবে, অপরাধ সংগঠনের আগেই অপরাধী নিস্ক্রিয় হবে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।’

বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, লোডশেডিং কমান, জ্বালানি সংকট সমাধান করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।’ 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমির বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে আমরা বারংবার বলে আসছি। কিন্তু এই বিষয়ে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিলো। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয়টিও অনুসরণ করা হয়নি। সংস্কারের অন্য বিষয়গুলোতে সরকার রীতিমতো বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। আমরা বারংবার বলে আসছি, দেশে সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমাদের দাবি ছিলো, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার সাধন করে দেশ থেকে স্বৈরতেন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে হবে।’ 

এমআর/এমআই