নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:১০ এএম
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি নতুন জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি হাতে আঘাতের চিহ্নযুক্ত একটি ছবিও যুক্ত করেছেন।
রাকিবের এই পোস্ট এমন সময়ে এসেছে, যখন ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
পোস্টের শুরুতেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাকিব লিখেছেন, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাকিব।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের প্রতিও দীর্ঘ পোস্টে ধন্যবাদ জানান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে রাকিব বলেন, তাঁদের শ্রম ও ঘামে রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে। নানা ষড়যন্ত্র তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে ছাত্রদলের সভাপতি লিখেছেন, তাঁদের কারও নামে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হয়নি। প্রচণ্ড আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তাঁরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে অধীন নেতা-কর্মীদেরও সততা, নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলতে অনুপ্রাণিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গও এসেছে রাকিবের পোস্টে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিকাশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন বলে জানান।
এমনকি নিজের দলের বাইরের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে এলে নিজের জায়গা থেকে সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন রাকিব। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে রাকিব বলেন, রাকিব-নাসির কমিটির অন্যতম সাফল্য ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ও বীরোচিত ভূমিকা পালন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরের বাস্তবতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত মব মোকাবিলা করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিং উপেক্ষা করেও নেতৃত্ব দিতে হয়েছে বলে জানান ছাত্রদলের সভাপতি।
তবে পোস্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন রাকিব। তিনি লিখেছেন, একটি নতুন জীবন শুরু করতে চান। নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সময়ে নিজের ভুলত্রুটির কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। রাকিব লিখেছেন, কেউই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁরও ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সবশেষে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাকিব। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্ব থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের অনেকে।
এদিকে পোস্টের সঙ্গে রাকিবের হাতে আঘাতের চিহ্নযুক্ত একটি ছবিও নজর কেড়েছে। ছবিটি পোস্টে যুক্ত করলেও তাঁর হাতে কীভাবে বা কখন আঘাত লেগেছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
এআর