নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে।
আন্দোলনে ‘জামায়াত-বিএনপি যোগ হয়েছে, মারো না কেন ওদের’ এমন কথোপকথনও উঠে এসেছে ফোনালাপে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ ঘটনায় সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ কল রেকর্ডটি বাজিয়ে শোনায় প্রসিকিউশন।
দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ডটি দাখিল করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। ট্রাইব্যুনালে বাজানো কল রেকর্ডটি দুই মিনিট ১২ সেকেন্ডের। কল ধরতেই সালাম দেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
২০২৪ সালের ১১ জুলাই দুজনের এ কথোপকথন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
ঢাকা মেইলের হাতে আসা ওবায়দুল কাদের ও সাদ্দাম হোসেনের ফোনালাপের অনুলিপিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
সাদ্দাম: আসসালামু আলাইকুম।
কাদের: ওয়ালাইকুম আসসালাম, হ্যাঁ, কি অবস্থা?
সাদ্দাম: স্যার, এই যে আমাদের সমাবেশ মাত্র শেষ করলাম। আর ওদের প্রোগ্রাম চলতেছে। তিন হাজারের মতো স্টুডেন্ট আছে।
কাদের: ওরা কত? ৪টা পর্যন্ত তো...
সাদ্দাম: হ্যাঁ, স্যার। এই যে ৮টা ৩০-এ সংবাদ সম্মেলন করবে, স্যার।
কাদের: কে?
সাদ্দাম: ওই যে আন্দোলনকারীরা।
কাদের: কখন?
সাদ্দাম: ৮টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করবে। সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি মনে হয় ঘোষণা করবে। এই দুই দিন জনসংযোগ করবে। এরপর তারা আল্টিমেটাম দেবে।
কাদের: শোনো, পেটাও না কেন? মারো না কেন ওদের?
সাদ্দাম: স্যার, ও যে আমাদের তো...
কাদের: সুযোগ দেও কেন? লিবারেল পাচ্ছো?
সাদ্দাম: স্যার, ওই যে নিষেধ করল আমাদের।
কাদের: তোমরা বললে তো আজকে থেকে হালকা হয়ে যাবে খুব।
সাদ্দাম: জি, স্যার।
কাদের: কই হালকা হইলো?
সাদ্দাম: জি স্যার, জামায়াত আজকে... বেশি ছিল, স্যার।
কাদের: তাহলে কি বললা তোমরা? বাস্তবে কি হচ্ছে? জামায়াত মানে? এখানে জামায়াত আর বিএনপি যোগ হইছে।
সাদ্দাম: আজকে আসছে স্যার। ছাত্রদলের নেতারা কিন্তু আসছে, যে কারণে জামায়াতও সেভাবে ইয়ে করছে।
কাদের: এটার কিছু করার নাই?
সাদ্দাম: স্যার, আমরা স্পেসিফিক বললাম। আমরা সিচুয়েশনে হ্যান্ডেল করতে পারবো, স্যার।
কাদের: অ্যাঁ?
সাদ্দাম: মানে, আমরা যদি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে আমরা সেটা করতে পারবো। আজকে ধরে যে আমাদের নিষেধ করল। বারবার ফোন দিয়ে বলল যে, শাহবাগের দিকে, অন্য দিকে আমরা যেন না যাই। মানে ওদের মুখোমুখি যেন না হই। এটাই তো বারবার বলতেছিল।
কাদের: কে?
সাদ্দাম: স্যার, ওই যে আমরা যেন ওদের মুখোমুখি না যাই। এটার জন্য বারবার আমাদের বলতেছিল আজকে।
কাদের: কে বলতেছে?
সাদ্দাম: এই যে ফোন দিয়েছিল সবাই। আমাদের পুলিশ প্লাস বিপ্লব দা-ও যোগাযোগ করছিল।
কাদের: বিপ্লব তো এটা বলার কথা না।
সাদ্দাম: না, এমনি ওই যে পুলিশও যোগাযোগ করতেছিল সব মিলিয়ে। মুখোমুখি হতে একবারে মানা করছিল।
কাদের: হুম।
গত ৪ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন।
এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।
আরএনবি/এআরএম