বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র: রিজভী
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ প্রদানকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন। যেদিন এই দেশে গণতন্ত্রের জন্য, অবাধে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগের জন্য, এ দেশের জনগণের কথা বলার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ, যে মহাবিপ্লব হয়েছে, সেই দিনই এই প্রোগ্রামটি (সংবাদ সম্মেলন) দিল্লিতে হয়েছে। যেখানে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়। অর্থাৎ মহাবিপ্লবের শহীদদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনাকে কথা বলার জন্য। আমি এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছি।

রিজভী বলেন, যখন আমরা শুনি শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন—গতকাল রেখেছেন অডিও বক্তব্য—গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়া তাদের প্রোগ্রামে বক্তব্য রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এটি ভারতের নীতিনির্ধারকদের অ্যারেঞ্জমেন্টেই এই কাজটা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুনের মামলা, দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। আমাদের ২০১৩ সালের বন্দী প্রত্যর্পণ যে চুক্তি বা এক্সট্রাডিশন চুক্তি দুই দেশের মধ্যে হয়েছে, তার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া যায়। এজন্য সরকার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যাবাসনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন, সে আইন এবং দুই দেশ তাতে সই করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ক্ষোভের সুরে বলেন, এই অপমান। পার্শ্ববর্তী দেশ, আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পরের অবস্থান করব। সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো এবং তার পুত্রসহ, তার পুত্রের সহযোগিতায়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায় করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি যে আমাদের মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মিউচুয়াল রেসপেক্ট—এটা সম্পূর্ণরূপে একটি হস্তক্ষেপ। আমাদের যে ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স, সেই ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্সেও এটা এক ধরনের হস্তক্ষেপ, ইন্টারফারেন্স বলে আমরা করি পার্শ্ববর্তী দেশের। অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা দিল্লিতে—এই সংবাদ যখন আমরা পেলাম, বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে—সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবহিত করেছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু সেটিতে সাড়া না দিয়ে ভারত সরকার ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনার পতনের দিন, পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছে।

তিনি বলেন, যে গণবিপ্লবে দেড় হাজারেরও বেশি তরুণ-কিশোর শিক্ষার্থীর জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে বাংলাদেশে, এক ভয়ঙ্কর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো শেখ হাসিনা। এক ভয়ঙ্কর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা—পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশেই তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ওই দিন, যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন ভয়ঙ্কর রক্ত ঝরানো পথ মাড়িয়ে বিপ্লব সাধিত হচ্ছে, সেই দিন তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এটা ষড়যন্ত্রমূলক।

ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

বিইউ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর