জেলা প্রতিনিধি
১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শেখ হাসিনার দেশে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) বিকেলে নগরীর দর্শনায় পল্লী নিবাসে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
জি এম কাদের বলেন, এই দেশের জন্য উনার বাবার ও পরিবারের অবদান রয়েছে। উনি আসতে চেয়েছেন, উনি যদি সরাসরি দেশে এসে মোকাবিলা করেন, তাহলে এটা দলের জন্যই ভালো। উনি (শেখ হাসিনা) একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ; উনি যেটা বলেছেন, সেটা উনি করবেন। দেশে বড় ধরনের একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সবাই ভাগবাটোয়ারা করে সব করতেন। এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসায় তারা কিছু বিষয়ে চিৎকার করছেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বাটোয়ারা ঠিকই হচ্ছে। কোটা আন্দোলন পরবর্তী কোটা সংস্কার কি হয়েছে, হয়নি। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় সরকার মানে জামায়াত ও তাদের দোসর এনসিপি ছিল। কেননা জামায়াত ও এনসিপি একদল। বাইরে মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ভেতরে ভেতরে কিন্ত নেতাদের বোঝাপড়া ঠিকই আছে।
জি এম কাদের বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষের জানমাল রক্ষার নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জনগণের মধ্যে এখনও ভয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের জানমাল রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মধ্যে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন তারা এখনও দেখতে পাচ্ছে না। যে কোটার জন্য আন্দোলন সেই কোটা এখনও রয়েছে। কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী কোরআনখানি, স্মরণসভা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে পল্লী নিবাসে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ভাষণ প্রচার এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
স্মরণ সভায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সভাপতি মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শমিম হায়দার পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রতিনিধি/এফএ