Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

‘যাদের রক্তের ওপর সরকার ক্ষমতায়, তাদের স্মরণে কোনো কর্মসূচি নেই’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ এএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের রক্তের ওপর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলেও তাদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদদের স্মরণ, ডকুমেন্টারি প্রচার কিংবা ৩৬ দিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচি না থাকায় সরকারের অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রায়েরবাজার বধ্যভূমি কবরস্থানে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মাসব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কবর জিয়ারতের আয়োজন করা হয়। আব্দুস সবুর ফকিরের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুর নবী মানিক, ড. মোবারক হোসাইন, আবদুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ও জুলাই যোদ্ধারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, যাদের রক্তের ওপর দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে, তাদের স্মরণে সরকারের কোনো কর্মসূচি নেই। এটি শুধু দুঃখজনক নয়, বরং উদ্বেগেরও বিষয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাত্র দ্বিতীয় বর্ষেই রাষ্ট্র জুলাই আন্দোলনকে যথাযথভাবে স্মরণ করছে না।

তিনি বলেন, সরকার যদি সত্যিই জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করত, তাহলে জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের আন্দোলন স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করা হতো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, বেতার কিংবা সংবাদ সংস্থাগুলোতেও জুলাইয়ের স্মৃতি বা আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে কোনো ডকুমেন্টারি বা বিশেষ আয়োজন নেই।

জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, জুলাই নিয়ে সরকারের কোনো কর্মসূচি না থাকায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে যে সরকার ৩৬ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ মুছে দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক পরিসর তৈরির পথে হাঁটছে।

আব্দুস সবুর ফকির আরও অভিযোগ করেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে সংস্কার প্রশ্নে নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিএনপি জুলাই সনদে সম্মতি দিয়েছে। তার ভাষায়, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণহত্যার বিচার চায় না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ন্যায়বিচারকে প্রতিশোধ হিসেবে দেখেন, তখন তা দেশে আবারও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল ন্যায়বিচার।

আব্দুস সবুর ফকির আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বর্তমান সরকারের শীর্ষ নেতারা দেশে ছিলেন না। ফলে আন্দোলনের প্রকৃত দাবি ও চেতনা সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি নেই। এ কারণেই সরকার জুলাই সনদকে উপেক্ষা করছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মতোই জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ সময় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, গণকবরে শায়িত অনেক শহীদের পরিবার আজও জানে না তাদের স্বজনের কবর কোথায়, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো, হত্যার নির্দেশ দেওয়া, উসকানি দেওয়া এবং তা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

জাসদ সভাপতি হাসনুল হক ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, এ রায় শহীদ ও আহতদের সঙ্গে উপহাস করার শামিল। তিনি সরকারের প্রতি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিচারিক বেঞ্চের ভূমিকা তদন্তেরও দাবি তোলেন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন এবং তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

টিএই/এএস