Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

জুলাই অভ্যুত্থান: ২ দাবি, ৩৬ দিনের কর্মসূচি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে ‘জুলাইয়ের চেতনা’ বাস্তবায়নে ২ দফা দাবি ও ৩৬ দিনব্যাপী ৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আগামী ১৮ জুলাইকে ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।  
 
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ও দাবি তুলে ধরা হয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা এবং দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
 
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকেই জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সূচনা। আন্দোলনের শুরু থেকেই ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এবং সাংগঠনিকভাবে আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল।
 
সংগঠনটির দাবি, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলি, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের মধ্যেও তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। একইসঙ্গে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরও আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করেছে। 
 

 
 
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কেবল একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়; এটি অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের বেদনা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই এই চেতনার মূল ভিত্তি।
 
তারা বলেন, দেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। শিক্ষাঙ্গনকে সহিংসতা ও দমন-পীড়নমুক্ত রেখে জ্ঞানচর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
 
২ দফা দাবি
১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে ‘জুলাই জাদুঘর’ চালু করতে হবে।
 
৭ দফা কর্মসূচি
জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়া।
জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ ও সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে পদযাত্রা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে সংলাপ ও দোয়া মাহফিল।
শরিয়াহসম্মত গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম নিয়ে দেশব্যাপী ডকুমেন্টারি প্রদর্শন।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণমূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন।
 
এছাড়া আগামী ১৮ জুলাই ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের সব ক্যাম্পাস ও জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
 
এমআর/ক.ম