images

রাজনীতি

‘দলীয় বিবেচনায়’ ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ, জামায়াতের প্রতিবাদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ মে ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

একদিনে দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দলীয় বিবেচনায়’ নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, এসব নিয়োগে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এভাবে দলীয়করণের সংস্কৃতি চালু করা জাতির জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, গত ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সময়ও জামায়াতে ইসলামী একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তখন দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে দলীয়করণের অপচেষ্টা। এখন সেই প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র। সেখানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়। অতীতে দলীয়করণের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অস্থিরতা, সেশনজট ও সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছিল, জনগণ সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।

তিনি আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথেই এগোচ্ছে। স্থানীয় সরকার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যন্ত দলীয়করণের প্রবণতা দেশের গণতন্ত্র, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশনিসংকেত।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরকার অগণতান্ত্রিক ও পক্ষপাতদুষ্ট পন্থা অবলম্বন করেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রকারান্তরে প্রতারণার শামিল।

বিবৃতিতে অবিলম্বে এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

টিএই/এফএ