images

রাজনীতি

ভোটের মাঠে দলীয় প্রধানরা, কে কার মুখোমুখি?

বোরহান উদ্দিন

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

 

  • রাজপথের মিত্ররা ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী
  • রাজনীতির ‘নতুন শক্তি’ বনাম ‘পুরনো মুখ
  • শোক কাটিয়ে প্রথমবার ভোটে তারেক রহমান
  • প্রথমবার সংসদে যাওয়ার হাতছানি জামায়াত আমিরের

দেশজুড়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আছে চাপা আতঙ্কও। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। রাজপথের চিরচেনা নেতারা যেমন আছেন, তেমনি ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এবারের নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে বিএনপিকে। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি বগুড়া-৭, ফেনী-১ এবং দিনাজপুর-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে এসব আসনে এখন বিএনপির বিকল্প প্রার্থীরা লড়াই করছেন, আর গোটা দল এই শোকাচ্ছন্ন পরিস্থিতিকেই জনসমর্থনে রূপ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

ভোটে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ছাড়া বাকি দলের প্রধানরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের বেশিরভাগেরই অন্য দলের শক্ত প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাদের নির্বাচনী আসন এবং বিপরীতে কারা লড়ছেন, তার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

তারেক রহমান (চেয়ারম্যান, বিএনপি)

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়া তারেক রহমান এবার লড়ছেন দুটি আসন থেকে। ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী) আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের (জামায়াত মনোনীত) প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান।

অন্যদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তার বিপরীতে লড়ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের (জামায়াত মনোনীত) প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল।

ডা. শফিকুর রহমান (আমির, জামায়াতে ইসলামী)

তিনি লড়ছেন রাজধানীর ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসন থেকে। এখানে তার মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সঙ্গে। জামায়াতের আমীর হিসেবে এই আসনটি ১১ দলীয় জোটের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক আসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাওলানা মামুনুল হক (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)

১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক লড়ছেন রাজধানীর ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে। এখানে তার মূল লড়াই হবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সাথে। সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে, এই আসনে মামুনুল হক ও ববি হাজ্জাজের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)

দলের আমির পীর সাহেব চরমোনাই সরাসরি ভোটে না দাঁড়ালেও সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম লড়ছেন বরিশালের দুটি আসনে। বরিশাল-৫ (সদর) আসনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার। 

এই আসনে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ফয়জুল করীমের সমর্থনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া তিনি বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক আবুল হোসেন।

নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি)

ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ নাহিদ ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা) আসনে। এখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. এম এ কাইয়ুম। তরুণ ও নতুন ভোটারদের বড় একটি অংশ নাহিদ ইসলামের দিকে ঝুঁকে থাকায় এই আসনটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি)

ভোলা-১ আসন থেকে লড়ছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। এই আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং পার্থকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে। ফলে ধানের শীষের সমর্থক ও বিজেপির ভোটারদের একক প্রার্থী হিসেবে তিনি এখানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।

জি এম কাদের (জাতীয় পার্টি)

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তিনি লড়ছেন রংপুর-৩ আসন থেকে। তার বিপরীতে লড়াই করছেন বিএনপির শামসুজ্জামান সামু। উল্লেখ্য যে, এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় লড়াই এখন দ্বিমুখী হতে যাচ্ছে।

জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন)

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি লড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে। বিএনপি এই আসনটি তাদের আন্দোলনের শরিক সাকিকে ছেড়ে দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে 'বিদ্রোহী' প্রার্থীদের কারণে লড়াইটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল খালেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। যদিও কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপে আব্দুল খালেক শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে এসে জোনায়েদ সাকিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু মাঠের চিত্র এখনো ধোঁয়াটে।

মান্নার ‘ক্লিন ইমেজ’ বনাম বিএনপির শাহে আলম

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না লড়ছেন তার পৈতৃক ভূমি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে। শুরুতে ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও পরবর্তীতে আপিল করে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।

এদিকে এই আসনে মান্নাকে লড়াই করতে হচ্ছে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী শাহে আলমের বিরুদ্ধে। যদিও আন্দোলনের সময় তারা একই সারিতে ছিলেন, কিন্তু ভোটের মাঠে এখন তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

উল্লেখ্য যে, মান্না ঢাকা-১৮ আসন থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তার পুরো মনোযোগ বগুড়াতেই রাখছেন।

এমআই