images

রাজনীতি

ইশতেহার: ১৫ বছরে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় দেশের অন্যতম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণায় এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

রাজধানী ঢাকার পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এসময় দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দলটির ইশতেহারে ঘোষিত উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো– নির্বাচনে জয়লাভ করলে তারা ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করবে; রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনবে; রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিয়ার প্রাধান্য দেবে; বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করবে; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি দলের দায়বদ্ধতা থাকবে; সকল জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে; ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয় করা হবে।

Islami_andolan_bangladesh_Manifesto
পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। ছবি- ঢাকা মেইল

ইশতেহারে বলা হয়, ‘খুন, গুম, মিথ্যা, গায়েবী মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের বিলোপ করা হবে। জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়; অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

ইশতেহারে আরও বলা হয়, ‘শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান, গ্যাস, বিদুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ, আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সেইসঙ্গে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হবে।’

কওমি মাদরাসার ডিগ্রীধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামায়ে কিরামদের সরকারি সুযোগের আওতাভুক্ত করা হবে বলেও ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

ইশতেহারে ১২টি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এগুলো হলো-

  • প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সহায়তা প্রদান।
  • প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা করে পুষ্টিকর খাবার প্রদান।
  • ১৮ থেকে ২৪ বছরের যুবদের জন্য সুদমুক্ত, জামানতবিহীন এককালীন ঋণের ব্যবস্থা করা।
  • সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড, ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ দেয়া ও বিভিন্ন সেবা সহজে পৌছাতে কৃষিকার্ড চালু করা।
  • ন্যাশনাল জব পোর্টাল তৈরি করা। যেখানে সব পেশার চাকরি প্রার্থীদের জন্য দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ প্রদান ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুবিধা থাকবে।
  • কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযন্ত কেন্দ্র গড়ে তোলা।
  • ঢাকাসহ সকল নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্রাঞ্চাইজ ভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা চালু করা।
  • সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা।
  • সকলের জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা প্রদান।
  • নারী-পুরুষ কর্মীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করা।
  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়া হবে।
  • কওমি সনদের স্বীকৃতির পুর্ণবাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়ন।

প্রসঙ্গত, এবার এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একটি ‘নির্বাচনি জোট’ গঠনের প্রক্রিয়া চালিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু মুহূর্তে গত ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন।

একই সঙ্গে ২৬৮ আসনে দলীয় প্রার্থীদের এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানায় দলটি। পরে অবশ্য তারা ২৫৯টি আসনে প্রার্থী দেয়। দলটির প্রার্থীরা নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে লড়ছেন।

এসএইচ/এএম