জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড, নারীদের হেনস্তা এবং প্রচারণায় বাধা দেওয়ার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, ‘গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, মামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে হুমকি ও লাঞ্ছনার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জামায়াতের দাবি, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের হামলায় এ ঘটনা ঘটে।
এছাড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ছাত্রদলের হামলায় শিবিরের একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। চুয়াডাঙ্গায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কথা বলায় এক ভিক্ষুককে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। ভোলা, কক্সবাজার, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের প্রচারণায় বাধা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি জানান, যশোর, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, সীতাকুণ্ড ও নওগাঁয় জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নারীদের উদ্দেশ্য করে ‘রাজনীতি ছেড়ে ঘরে থাকার’ হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে জুবায়ের বলেন, কয়েকটি আসনে অর্থ বিতরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্রসহ বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতারের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এসব ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হন।
জুবায়ের বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে এসব ঘটনা লিখিতভাবে জানিয়েছি। আগামীকালও একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যাবে, যেখানে নারী প্রতিনিধিরাও থাকবেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় এবং সবসময় আইন ও শৃঙ্খলার পক্ষে রয়েছে। তবে কোনো দল যেন সহিংসতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে জামায়াত জানায়, আগামীর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ, সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের কোনো স্থান নেই এবং এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
টিএই/এএইচ