জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
সারাদেশে নারীদের উপর অত্যাচার ও তাদের ওপর হামলা এবং কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘৩১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হবে। এই প্রথমবার বলা যায়, আমাদের নারী সংগঠনের কর্মীরা বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করবেন।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন
এর আগে নির্বাচনি প্রচারে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ওই দিন জুবায়ের বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত নারী কর্মীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় তাদের নাজেহাল করা হচ্ছে, অপদস্ত করা হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও নেকাব পরিহিত অবস্থায় নারীদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেকের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।’
দেশের মোট ভোটারের অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই নারী ভোটাররা নারীদের সঙ্গে কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক যে, নারীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১২ তারিখের গণভোটে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সব দলের নারীরাই কাজ করছেন। আমরা তাদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আমাদের নারী কর্মীদের ওপর মারাত্মক আচরণ করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক এবং পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এসব বিষয়ে আমরা বিস্তারিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি এবং অনুরোধ করেছি যেন রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাই যথাযথ ভূমিকা পালন করেন।’
আরও পড়ুন: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির সারোয়ার
জুবায়ের বলেন, ‘আমরা কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগও জানিয়েছি। কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি আমরা অনেক জায়গায় দেখতে পাচ্ছি না। একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।’
জামায়াত নেতা বলেন, ‘আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা আলোচনা করেছি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যখন নির্বাচনি কাজে যুক্ত হচ্ছেন, তখন স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু ব্যক্তি, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটরাও তাদের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং জরিমানা করেছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি নিজেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে তিনি কীভাবে নির্বাচনি কর্মী হতে পারবেন না, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, এ ধরনের ঘটনা পত্রিকায়ও এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে আমরা সরাসরি তথ্য দিয়েছি। একজন শিক্ষককে এভাবে নাজেহাল বা জরিমানা করলে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। এটা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। কমিশন জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি ব্যাখ্যা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আইনি ব্যাখ্যার অসুবিধার কারণে কোনো শিক্ষকের সম্মানহানি হোক, এটা কেউ চায় না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু জেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, তারা নির্লজ্জভাবে একটি দলের পক্ষে ভূমিকা পালন করছেন। আমরা বলেছি, প্রয়োজনে এসব বিষয় জাতির সামনে তুলে ধরতে আমরা বাধ্য হব। সে জন্যই আগেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, যেন তারা সবাইকে নিরপেক্ষ অবস্থানে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।’
টিএই/এমআই