images

রাজনীতি

বিকাশের মাধ্যমে ভোট কেনা কি আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়, প্রশ্ন রিজভীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে ব্যবহার করে এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, এটা কি নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়- নির্বাচন কমিশনের কাছে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আমাদের জন্য কাজ করুন, আপনার বিকাশ নম্বর দিন, আমরা সেখানে কিছু পাঠাব। এটি আমার কথা নয় আমি পত্রিকায় পড়েছি। প্রশ্ন হলো, এটি কি নির্বাচনি আচরণবিধির মধ্যে পড়ে? টাকা দিয়ে ভোট কেনা কি আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়?’

আরও পড়ুন: আবু সাঈদদের রেখে যাওয়া আমানত জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব: জামায়াত আমির

প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; এটি ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের ফল।’

রিজভী বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যিনি গোটা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকো পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। তার এই মৃত্যু ছিল অকাল মৃত্যু, স্বাভাবিক স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসরদের সম্মিলিত নিপীড়ন-নির্যাতনের ফলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।’

তিনি স্মরণ করেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমনের জন্য শেখ হাসিনা সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে চারদিক থেকে বালির ট্রাক ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার চোখে গোলমরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয় এবং পেয়ারা গাছের ধোঁয়ার মধ্যে শ্বাসরোধের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘এই নিপীড়নের পৈশাচিক রূপ সুদূর মালয়েশিয়া থেকে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি তখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের ওপর চালানো নির্যাতনের বীভৎস দৃশ্য দেখে তিনি নিজেকে সামাল দিতে পারেননি এবং দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোকোর লাশ দেশে আসার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন পুলিশের হুলিয়ার মধ্যে ছিলেন। টেলিভিশনে তারা দেখেছেন, মৃত সন্তানের লাশ কোলে নিয়ে বসে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। শোক জানাতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মী তো বটেই, দেশের বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, চিকিৎসক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়।’

রিজভী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ গুলশান কার্যালয়ে শোক জানিয়ে বাসায় ফেরার আগেই তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল ফ্যাসিবাদের লোমহর্ষক অত্যাচারের নিদর্শন।’

তিনি বলেন, ‘অনেক রক্তস্রোত ও ত্যাগের বিনিময়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ এই দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ নানা বাহিনীর নির্যাতন, আয়নাঘর ও রিমান্ডের নামে নির্যাতনের পরও জনতার উত্তাল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘যারা জনগণের নেতা ও জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের শেষ পরিণতি পালিয়ে যাওয়া। ৫ই আগস্ট তার প্রমাণ। এটি প্রকৃতির নিয়ম এবং আল্লাহর বিধান কোনো অত্যাচারীকে আল্লাহ সহ্য করেন না।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুক। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে, এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।’

তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব নির্বাচনি আইন-কানুন ও বিধি মেনেই কাজ করছেন। তিনি বগুড়ায় নিজ গ্রামের বাড়ি ও শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে চাইলেও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তা স্থগিত করেন। পরে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর দিন হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন।

রিজভী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা দেখিনি যে তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন বা অকথ্য ভাষায় কথা বলেছেন। বরং তিনি শালীন ও সংযত ভাষায় বক্তব্য রাখছেন। নির্বাচনি আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে-ধর্ম বা আর্থিক প্রলোভন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু ধর্মকে ভোটের কাজে ব্যবহার করা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বিকাশে কাকে কাকে টাকা পাঠানো হচ্ছে-এসব অজানা থাকছে না। তাই অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সবাইকে সংযত হতে হবে, যাতে বড় ধরনের আইনি ভুল না হয়।’

রিজভী বলেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতি করতেন না; তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়া সংগঠক। কিন্তু তার মৃত্যু ছিল নির্মম নিপীড়নমূলক দুঃশাসনের ফল।’

তিনি কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এই দোয়া করেন।

এসময় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

বিইউ/এমআই