Dhaka Mail Logo

মতামত

আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে বিনিয়োগ

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা যে বাধাগ্রস্ত হবে- সেটাও অনেকটা নিশ্চিত। 

বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ব্যবসায়িক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতার ঘাটতি উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করবে- এটাই স্বাভাবিক। ফলে বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণ যেমন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তেমনি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও বেশ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগের মন্থরতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটি ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই পূর্বাভাস বাস্তব ফলাফল নয়; তবে এটি অর্থনীতির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য

একজন উদ্যোক্তা নতুন ব্যবসা শুরু কিংবা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের আগে সাধারণত কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে থাকেন। বিনিয়োগের অর্থ কোথা থেকে আসবে, উৎপাদন ব্যয় কত হবে, নির্বিঘ্নে পণ্য বাজারজাত করা যাবে কি না এবং বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত আয় পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু—এসবের পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যবসা, সম্পদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ দখল কিংবা অন্যান্য অপরাধের আশঙ্কা উদ্যোক্তাদের ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনার স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হলে ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির একটি মতবিনিময় সভায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা দুর্বল আইনশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তাকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের প্রতিবন্ধক হিসেবে তুলে ধরেন। অর্থাৎ, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার প্রশ্নটি শুধু অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা করছাড় দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কার্যকর আইন প্রয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো অপরাধ দমনে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধ ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের অর্থ এই নয় যে দেশের সব অঞ্চল বা সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে। বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নে অঞ্চলভিত্তিক অপরাধের তথ্য, ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিসংখ্যান বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি সংকট: শিল্প উৎপাদনের বড় বাধা

শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবছিন্ন সরবরাহ অপরিহার্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিক, ইস্পাত, রাসায়নিক, সার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য জ্বালানিনির্ভর শিল্পে সরবরাহের অনিশ্চয়তা উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা না গেলে প্রতি একক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয় এবং রপ্তানি আদেশ হারানোর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

বিদ্যমান কারখানাগুলোকে এসব সমস্যার সমাধান না হলে নতুন বিনিয়োগকারীগন সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করার পর পর্যাপ্ত গ্যাস বা বিদ্যুৎ না পেলে উৎপাদন শুরু করা যায় না, অথবা প্রত্যাশিত মাত্রায় উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। অথচ জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি ও ঋণের সুদ বা মুনাফার ব্যয় নিয়মিতই বহন করতে হয়। এতে বিনিয়োগের অর্থ আটকে থাকে এবং আর্থিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

২০২৬ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে গ্যাসসংকটের কারণে শিল্পকারখানার সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার না হওয়া এবং নতুন কারখানা চালু করতে বিলম্বের কথা উঠে আসে। অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এক প্রতিবেদনে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হওয়ার পর কিছু কারখানার উৎপাদন পুনরুদ্ধারের তথ্য প্রকাশিত হয়। এই দুটি তথ্য থেকে বোঝা যায়, জ্বালানি সরবরাহের অবস্থা শিল্প উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে; একই সঙ্গে সরবরাহ উন্নত হলে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়।

অতএব, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। গ্যাস আমদানি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি প্রাপ্যতা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

বিনিয়োগের স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকি

বিনিয়োগ কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু উদ্যোক্তা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে শ্রমিক, চাকরিপ্রার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। নতুন কারখানা স্থাপিত না হলে সম্ভাব্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ করতে না পারলে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের মতো শ্রমশক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। তাদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সক্ষমতা ও আগ্রহ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত নিশ্চয়তা পান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত বিডিনিউজ২৪ ডটকম-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২.৫ শতাংশ কমে ৫০৬.৯ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এই হ্রাসকে এককভাবে বিনিয়োগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ঋণের উচ্চ ব্যয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি ও নীতিগত অনিশ্চয়তাসহ একাধিক কারণ এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও বিনিয়োগের মন্থরতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জ্বালানি সমস্যার সমাধানকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

সরকারের করণীয়

প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। চাঁদাবাজি, দখলদারি, হুমকি এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি চালু করা ভীষন জরুরি।

দ্বিতীয়ত, শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। কোন শিল্পাঞ্চলে কতটুকু জ্বালানি প্রয়োজন, সরবরাহের ঘাটতি কোথায় এবং কোন অবকাঠামোগত উদ্যোগে দ্রুত উন্নতি সম্ভব—এসব তথ্যের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা উচিত। নতুন সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন স্বচ্ছ মানদণ্ডে পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তৃতীয়ত, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। একাধিক দপ্তরে ঘুরে অনুমোদন সংগ্রহ, অযৌক্তিক বিলম্ব এবং অস্পষ্ট নিয়ম বিনিয়োগের সময় ও ব্যয় বাড়ায়। ডিজিটাল সেবা, নির্ধারিত সময়সীমা এবং দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে এসব প্রতিবন্ধকতা কমানো সম্ভব বলে আশা করা যায়।

চতুর্থত, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। ঘন ঘন নীতির পরিবর্তন, উচ্চ ঋণব্যয় এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করে। তাই ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, ঋণের যথাযথ মূল্যায়ন, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের পরিবেশ উন্নত করা জরুরি।

পঞ্চমত, শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সমস্যার প্রতিও নজর দিতে হবে। সহজ শর্তে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো গেলে এসব প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পারে।

এসব উদ্যোগের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা দরকার। নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব, বাস্তবায়িত বিনিয়োগ, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, অনুমোদন পেতে সময়, ব্যবসায়িক অপরাধের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো সূচক প্রকাশ করলে সরকার ও বেসরকারি খাত উভয়ই অগ্রগতি যাচাই করতে পারবে।

আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান কাজ

বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে রূপ দিতে হলে উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা একে অপরের পরিপূরক।

সরকারের উদ্যোগে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি হলে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা উচিত। তবে সাময়িক উন্নতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন শুধু অপরাধের পরিসংখ্যান কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তাবোধও বাড়াতে হবে।

বিনিয়োগকারীরা শুধু প্রণোদনা বা করছাড়ের দিকে তাকান না; তারা দেখতে চান তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে কি না, উৎপাদন নিয়মিত চালানো যাবে কি না এবং আইন ও নীতির প্রয়োগ কতটা নির্ভরযোগ্য। এই নিশ্চয়তাগুলো দুর্বল হলে নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে শিল্পায়ন, রপ্তানি, রাজস্ব এবং কর্মসংস্থানে।

সুতরাং, বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা কেবল অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি দেশের কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত।

লেখক: ইসলামি ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তক, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মানবাধিকারকর্মী

এআরএম