Dhaka Mail Logo

মতামত

ব্যর্থতাকে ভয় নয়, হোক ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা

ঢাকা মেইল ডেস্ক

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

জীবনে সফল হওয়ার স্বপ্ন সবাই দেখেন, কিন্তু সেই পথে ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি সবার থাকে না। অথচ ভুল, হতাশা ও প্রতিকূলতা মানুষের জীবনযাত্রারই অংশ। কোনো কাজে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই সব সম্ভাবনার সমাপ্তি নয়। বরং ব্যর্থতার কারণ খুঁজে তা থেকে শিক্ষা নেওয়াই হতে পারে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি।

আমাদের সমাজে সাফল্যকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, ব্যর্থতাকে ততটা ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে শিক্ষার্থীকে মেধাহীন বলা হয়, ব্যবসায় লোকসান হলে উদ্যোক্তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, আর চাকরি না পেলে তরুণদের অনেক সময় অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ নষ্ট করে। অথচ একজন মানুষের সাময়িক ব্যর্থতা দিয়ে তার যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না।

বিশেষ করে তরুণদের জীবনে ব্যর্থতা মোকাবিলার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। পড়াশোনা, কর্মজীবন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অভিজ্ঞতা আসতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করাও অনেকের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের পরিস্থিতি, সুযোগ ও এগিয়ে যাওয়ার পথ আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী উন্নতির চেষ্টা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অর্থ কেবল আবার চেষ্টা করা নয়; বরং আগের ভুলের কারণ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। কোনো পরিকল্পনা কাজ না করলে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে, দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই ভুল বারবার করে যাওয়ার মধ্যে কৃতিত্ব নেই। প্রকৃত শিক্ষা হলো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপকে আরও কার্যকর করে তোলা।

আরও পড়ুন

প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, চাই সহমর্মিতা

এই শিক্ষা শুধু ব্যক্তিজীবনের জন্য নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতির ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল না দিলে তার কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। ভুল আড়াল করা বা দায় এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। ভুল স্বীকারের সংস্কৃতি তৈরি হলে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন ও উন্নয়নের পথও প্রসারিত হয়।

এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের পরীক্ষার ফল দিয়ে বিচার না করে শেখার আগ্রহ বাড়াতে হবে। তরুণদের নতুন উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দিতে হবে, যাতে ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে তাঁরা সম্ভাবনার দরজা বন্ধ না করেন। একই সঙ্গে তাদের শেখাতে হবে, আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও ভুল সংশোধনের মানসিকতাও জরুরি। যেমন, সাফল্য অর্জনকারীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সংগ্রামকেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

জীবনের সব চেষ্টা সফল হবে না, সব স্বপ্নও পূরণ হবে না। কিন্তু একটি ব্যর্থতা যেন পরবর্তী সম্ভাবনাগুলোকে থামিয়ে না দেয়। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানো এবং নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। কারণ, ব্যর্থতা মানুষের শেষ পরিচয় নয়; বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে।

লেখক: সংবাদকর্মী