২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
মানুষের মান‑সম্মান তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। একবার নষ্ট হয়ে গেলে আর টাকা দিয়েও কেনা যায় না— বা কোনোভাবেই ফিরে পাওয়া যায় না।
আমাদের চারপাশে আজ একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখা যায়: অনেকে কিছু সৃষ্টিশীল বা গঠনমূলক কাজ করার চেয়ে অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা, তাদের সুনাম নষ্ট করা বা তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই অনেক বেশি আগ্রহী ও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
কারো সাফল্য, সুনাম বা সুখ‑সাফল্য দেখলে অনেকে খুশি না হয়ে বরং অস্থির, ক্রোধান্বিত ও নিষ্ঠুর হয়ে পড়েন — যেন ওই ব্যক্তির সম্মান ও সাফল্য তাদের নিজেদের কিছু অংশ কেড়ে নিচ্ছে।
যারা নিজেদের প্রকৃত মূল্য জানেন না এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না, তারা প্রায়শই অন্যকে নিচে নামিয়ে নিজেকে বড় প্রতিপন্ন করার এমন একটি অসার চেষ্টা করেন। আমি তোমাকে ছোট করলে আমি বড় হয়ে যাব — এটি কেবল একটি ভ্রান্ত ধারণা মাত্র। এ ধরনের কাজ কখনোই অন্তরের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না।
আমরা অন্যকে এগিয়ে যেতে বা সুনাম অর্জন করতে দেখলে তা মেনে নিতে পারি না। নিজের উন্নতি করার পথ খুঁজার বদলে আমাদের মনে হয়— 'আমি যদি এটি পেতে না পারি, তবে ও কেন পাবে?' আমরা এক সাধারণ সত্যটি ভুলে যাই: একটি প্রদীপ জ্বালালে অন্য প্রদীপের আলো কখনোই কমে যায় না।
অনেকে ভুলভাবে বিশ্বাস করেন যে, কাউকে অসম্মান করলে বা কষ্ট দিলেই তাদের ক্ষমতা প্রকাশ পায়। প্রকৃত শক্তি হলো কাউকে উন্নত ও সম্মানিত করা; কাউকে নিচে নামানো তা কখনোই শক্তি নয়— বরং এটি চরম দুর্বলতার পরিচায়ক। নিজের ক্রোধ ও জিহ্বাকে সংযত রাখা কাউকে আঘাত করার চেয়ে অনেক বড় এবং অনেক কঠিন শক্তির কাজ।
'শাশুড়ি মেরে বউ রাগ, সে রাগে পাড়া জাগ' — এটি সিলেটসহ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অতি পরিচিত প্রবাদ। আগে থেকেই আক্রমণ করুন, 'উচ্চকণ্ঠে দোষারোপ করুন যাতে কেউ নিজের ত্রুটি ও ভুল লক্ষ্য না করে' এই মনোভাবও আমাদের মধ্যে বেশ কাজ করে। মিথ্যা প্রচার চালানো বা অন্যের সুনাম নষ্ট করা এভাবে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার একটি নিন্মক্ষম কৌশল হয়ে দাঁড়ায়।
আমরা একটি চিরসত্য বিষয়টি প্রায়শই ভুলে যাই: যা নিজের প্রতি আমরা চাই না, তা কখনোই অন্যের প্রতি করব না। যখন আমরা অন্যায়ভাবে কাউকে ক্ষতি করি, তখন ধীরে ধীরে আমরা তাদেরকে আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখতে ভুলে যাই।
অন্যকে নষ্ট করে কেউ দীর্ঘস্থায়ীভাবে সম্মান পায় না। ক্ষণিকের সুবিধা বা ক্ষমতার আভাস পেতে পারেন — কিন্তু এর বিনিময়ে ধীরে ধীরে হারান শান্তি, পরিশেষে নিজের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের সম্মানকেও। লোকজন ভয় পেতে পারে, কিন্তু তারা কখনোই বিশ্বাস বা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে না। এভাবে সমাজে কেবল কলহ, কটুতা ও অবিশ্বাসই বাড়ে।
সম্মান সীমিত কোনো বস্তু নয়। আপনি যখন কারো সম্মান বাড়ান — নিজের সম্মানও বাড়ান। আপনি যখন কারো সুনাম রক্ষা করেন — তখন আপনার নিজের সুনামও সুরক্ষিত হয়। অন্যকে টেনে নিচে নামিয়ে কখনোই আপনি উঁচুতে উঠতে পারবেন না।
ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, প্রধান সম্পাদক Thesylhetpost.com ওয়ার্কিং ফর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস যুক্তরাজ্য।
এআরএম