Dhaka Mail Logo

জাতীয়

যাত্রীবেশে ভাব জমিয়ে সর্বস্ব লুটে নিত তারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:২৭ পিএম

গণপরিবহনে নানা কায়দায় যাত্রীকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করে নেওয়া চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সেই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের চেতনানাশক ট্যাবলেট ছাড়াও কোমল পানীয় এবং ঝাঁঝালো পদার্থ মিশ্রিত ভ্যাসলিন জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- মজিবুর রহমান, নাসির উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, জয়নাল, কবির হোসেন, হারিছ, আরব আলী ও ইদ্রিস মুন্সি।

>> আরও পড়ুন: রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৫৯

ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ যাত্রীর বেশভূষায় এই চক্রের সদস্যরা ঢাকার বিভিন্ন যানবাহনে উঠত। এরপর যাত্রীর সিটের পাশে বসে খাতির জমাত। পরে সুযোগ বুঝে কাউকে চেতনানাশক কোমল পানীয় আবার কাউকে বিস্কুট জাতীয় শুকনো খাবার খাওয়াত। আর কেউ যদি এসবের কোনোকিছু খেতে রাজি না হতো, তবে তাদের কৌশলে চেতনানাশক শুকানো রুমাল ব্যবহার করে অজ্ঞান করা হতো। পরে যাত্রীর সর্বস্ব লুটে নিত চক্রের সদস্যরা।

>> আরও পড়ুন: দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই চক্রের সদস্যরা যাত্রীবেশে বিভিন্ন গণপরিবহনে উঠা ছাড়াও বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালসহ জনসমাগম স্থলে ভিড়ের মধ্যে সাধারণ যাত্রী বা পথচারীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলত। পরে তাদের বিস্কুট, কলা, কেক, পানি, ডাব বা অন্য খাবার খাওয়ানোর আমন্ত্রণ জানিয়ে অজ্ঞান করে মুঠোফোন, মানিব্যাগ, ল্যাপটপসহ সর্বস্ব লুটে নিত। মূলত সারা বছর চক্রের সদস্যরা এই কাজ করলেও ঈদ, পূজা, রোজাসহ অন্যান্য পার্বণকে সমানে রেখে তাদের তৎপরতা বেড়ে যায়।

ডিবি প্রধান বলেন, এর আগেও এই চক্রের সদস্যরা ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। তাদের নামে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এমন চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এমআইকে/আইএইচ