জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:৪৪ পিএম
রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যার অনুপাতে দুই হাজার ৪০০টি খেলার মাঠ থাকা দরকার। কিন্তু মাঠ আছে মাত্র ২৩৫টি। এর মধ্যে শিশুদের প্রবেশগম্যতা আছে বা শিশুরা ব্যবহার করতে পারে মাত্র ৪২টি মাঠ।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের ডিরেক্টর ফিল্ড অপারেশন লিমা হানা দারিং এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন এসব তথ্য।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের তথ্য বলছে, দেশে ১১ লাখ ৫০ হাজার পথশিশু আছে। শিশুশ্রমে জড়িত ১৭ লাখ শিশু। যারা স্বাভাবিক জীবন পাচ্ছে না। শিক্ষা চিকিৎসা সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে আন্তর্জাতিক শিশু উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আয়োজনে ‘শিশুবান্ধব নগর শিশুর অধিকার, বাস্তবায়ন আমাদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক সংসদীয় আরবান ককাস গঠন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় জানানো হয় এসব তথ্য। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু।
আরও পড়ুন: ‘খেলার মাঠ কমায় অপরাধ বাড়ছে’
‘স্মার্ট বাংলাদেশে এগিয়ে থাকবে শিশুরা’ এমন মন্তব্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পথ শিশু কিংবা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। আরবান এলাকার পিছিয়ে পরা ও অবহেলিত শিশুরা আমাদেরই সন্তান। তাদেরকে এগিয়ে নিতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আ্যরমা দত্ত বলেন, শিশুশ্রম নিরসন এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি বাচ্চার মুখে হাসি ফোটানো আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, এসডিজির লক্ষমাত্রা পূরণে শিশুদের অধিকার বাস্তবায়ন আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এপর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো শিশুদের নিয়ে কী কী কর্মসূচি পালন করেছে সে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। প্রতিটি শিশুর হাসিমাকা মুখ সবাইকে অনুধাবন করা প্রয়োজন, তাহলে ওদের জন্য আরও গভীরভাবে কাজ করা সম্ভব।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তফা বলেন, পথশিশুরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। আমাদের সেই দিকটাতে নজর দিতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা একটা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়গুলো আরও কাজ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ঢাকার সব খেলার মাঠ উদ্ধার করতে চায় ডিএনসিসি
সুবর্ণা মোস্তফা বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ করা সহজ, কিন্তু শিশুদের মাদকাসক্তি বন্ধ করা খুবই কঠিন। সর্বস্তরের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের কীভাবে নিরাপদ রাখা যায় সেটা নিয়েই ভাবতে হবে। আলোচনা, সভা, সেমিনার নয় শিশুদের জন্য মাঠে নেমে কাজ করতে হবে, তবেই পথ শিশু কিংবা বঞ্চিত শিশুরা সম্পদে পরিণত হবে।
সভায় শিশু সুরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম মনিটরিং, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিকের আদলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে পথশিশু কিংবা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ডিরেক্টর অপারেশনস লিমা হান্না দারিংয়ের সঞ্চালনায় সংস্থাটির সিনিয়র ডিরেক্টর চন্দন জেড গমেজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক চন্দন গমেজ বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি আরবান প্রোগ্রামের পাইলট পর্ব চলছে, যা ২০২৫ এ শেষ হবে। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের নিয়মিত কার্যক্রমের সঙ্গে আরবান বা নগর অঞ্চলের অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা, গাজীপুর এবং চট্টগ্রামে এই কার্যক্রম শুরু করেছে, যার সফলতা ও সরকারের সহযোগিতা পেলে শিগগির এটি রংপুর, খুলনা ও বরিশাল নগর এলাকায় শুরু করা হবে।
সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রানা মোহাম্মদ সোহেল, শবনম জাহান শীলা, রুবিনা আক্তার মিরা, শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শামসুন নাহার, আদিবা আনজুম মিতা প্রমুখ।
সংসদীয় আরবান ককাস নতুন গঠিত কোর সদস্যরা হলেন আহ্বায়ক রানা মোহাম্মদ সোহেল, সদস্য সচিব রুবিনা আক্তার মিরা, সদস্য হয়েছেন আরোমা দত্ত ও শিরীন আহমেদ।
বিইউ/জেবি