জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ মার্চ ২০২২, ০৬:৩২ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর বিষয়ে এবার তদন্তে নেমেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার মৃত্যু নিয়ে যে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে এর তদন্ত করছে তারা।
বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।
পান্থপথে মৃত ব্যক্তি হারিছ চৌধুরী কি না, তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে এটা নিয়ে কাজ করছি। পত্রিকায় খবর এসেছে। এটা নিয়ে ডিবি কাজ করছে। লাশ ডিজেন্টার (মরদেহ উঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ) করলে বা ডিএনএ টেস্ট করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
সম্প্রতি বিএনপির নেতা হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে জাতীয় একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে বলা হয়- হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে একটি হাসপাতালে মারা যান। তার আগে তিনি পান্থপথের একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন। মৃত্যুর পর সাভারের একটি মাদরাসার কবরস্থানে মাহমুদুর রহমান নামে তাকে দাফন করা হয়েছে বলেও প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে নানা কথা হচ্ছিল। সর্বশেষ পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিবির প্রধান তার মৃত্যুর রহস্য নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানালেন।
আরও পড়ুন: ধর্ষণের ঘটনা জানাতে চাওয়ায় স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেন আলমগীর
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রভাবশালী নেতা সিলেটের হারিছ চৌধুরী। ওই হামলার টার্গেট ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলা মামলার চার্জশিটেও অভিযুক্ত আসামি ছিলেন হারিছ চৌধুরী। তবে অভিযোগপত্রে তাকে লাপাত্তা দেখানো হয়।
২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর হারিছ চৌধুরী গা-ঢাকা দেন। ২১ আগস্ট হামলা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হওয়ার পর ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি হয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, ‘খুন এবং আওয়ামী লীগের সমাবেশে হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ।’ রেড নোটিশে তার ছবিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
এমআইকে/আইএইচ