রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ঢাকা

ধর্ষণের ঘটনা জানাতে চাওয়ায় স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেন আলমগীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২২, ০৪:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

ধর্ষণের ঘটনা জানাতে চাওয়ায় স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেন আলমগীর
গ্রেফতার আলমগীর মিয়া | ছবি: ঢাকা মেইল

চট্টগ্রামের হালিশহরে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে র‌্যাব। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আলমগীর মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে আলমগীর র‌্যাবকে জানিয়েছে- ঘটনার দিন কৌশলে ওই ছাত্রীকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে। এ সময় ওই ছাত্রী বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলে জানালে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে গার্মেন্টস চাকরিজীবী স্ত্রীকে নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় আলমগীর।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতার আলমগীর হত্যার শিকার ওই ছাত্রীর সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকত। প্রতিদিনের মতো ওই স্কুলছাত্রী সকালে কোচিং শেষে বাসায় ফেরে। পরে তাকে কৌশলে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আলমগীর। সে সময় বাঁচার আত্মচিৎকারের পাশাপাশি বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় ওই ছাত্রী।

এতে আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে তার গলা চেপে ধরে। পরে ওই ছাত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এছাড়া ঘটনার পর লাশটি বিছানার নিচে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় আলমগীর।


বিজ্ঞাপন


এদিকে, গার্মেন্টসে চাকরিজীবী বউকে আলমগীর জানায়- এলাকার এক ছেলের সঙ্গে তার বাড়াবাড়ি হয়েছে। তাই তাকে নিয়ে এসে দ্রুত এলাকা ছাড়তে চায় সে। পরে স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় সে।

অন্যদিকে, দুপুরের দিকে ওই স্কুলছাত্রীর মা বাসায় ফিরলে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে তার সহপাঠীদের কাছ মেয়ের খোঁজ নেন। সে সময় তিনি জানতে পারেন- তার মেয়ে কোচিং শেষে বাড়ি ফিরেছে, কিন্তু আর স্কুলে যায়নি। একই সময় তিনি পাশে থাকা আলমগীরের কক্ষটি তালাবদ্ধ দেখতে পান এবং আলমগীরের স্ত্রীও ওইদিন দুপুরে খেতে আসেননি। পরে তাদের মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।

একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে আলমগীরের কক্ষের ফ্যান চালুসহ লাইট জালানো অবস্থায় দেখে- নিহত ওই ছাত্রীর পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে তারা বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানালে ঘরের দরজা ভেঙে খাটের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই ছাত্রীর লাশ দেখতে পান।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন‌ আরও জানান, ওই ছাত্রীর বাবা রিকশাচালক আর মা গার্মেন্টসে চাকরি করত। আর তার ছোট ভাই একটি দোকানে কাজ করত। বাবা-মা গরীব হলেও মেয়েটি ছিল অত্যন্ত মেধাবী। এ জন্য নিহত ওই স্কুলছাত্রীকে বিনা বেতনে পড়াতেন তার শিক্ষক। দরিদ্র হওয়া সত্বেও মেয়েটি সংগ্রাম করে তার পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল।

আরও পড়ুন: টাকা ও স্বর্ণের লোভে আফরোজাকে খুন করেন গাড়িচালক

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, পূর্বে সাভারের একটি গার্মেন্টসে ডিজাইনের কাজ করত আলমগীর। সে দুটি বিবাহ করেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সাভার থেকে তিন মাস আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রামের হালিশহর বসবাস শুরু করে সে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীও একজন গার্মেন্টস কর্মী।

কাজ না থাকায় আলমগীর সারাক্ষণ বাসায় অবস্থান করত জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোপূর্বেও আলমগীরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর সে প্রথমে ধামরাই ও পরে সাভারে আত্মগোপন করে। পরবর্তীকালে আবারও মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। সবশেষ র‌্যাবের অভিযানে মানিকগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এমআইকে/আইএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর