Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘৭ নভেম্বরের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান না থাকলে এদেশের অস্তিত্ব থাকত না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়াউর রহমান নেতৃত্বের জায়গায় না এলে বাংলাদেশের বর্তমান অস্তিত্ব টিকে থাকত কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। সততা, সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ ও জাতীয়তাবোধের কারণে তিনি সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি; বরং পরিস্থিতির প্রয়োজনে স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্বের আসনে চলে এসেছিলেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় ঐক্য: ৭ নভেম্বরের চেতনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি স্টাডিজ সেন্টার (ভিপিএসএসসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিলেন টু ফিল্ড আর্টিলারির সৈনিকরা। এ সময় ফোর বেঙ্গলের সৈনিকরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন। মুক্ত করার পর তাকে টু ফিল্ড আর্টিলারির সিও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে ঘিরেই সেনাবাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল। তিনি কোনো পরিকল্পিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নেতৃত্ব গ্রহণ করেননি, বরং তৎকালীন পরিস্থিতিই তাকে নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসে।

কর্নেল তাহের ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী থেকে বের হওয়ার পর কর্নেল তাহের জাসদের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও গণবাহিনী গড়ে তোলেন। তৎকালীন সরকারকে উৎখাত করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে জিয়াউর রহমানকে শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে নেওয়া হলে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধাদের বিভাজন দূর করতে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। সে সময় সেনাসদস্যদের পোশাক, জুতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট ছিল। তিনি সেনাবাহিনীর কাঠামো ও সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। এমনকি জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে আওয়ামী লীগকেও আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মতো নেতা আমার জীবদ্দশায় আর দেখা যাবে কি না, তা সন্দিহান।’ দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক নেতাদের আরও সতর্ক ও দূরদর্শী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, ভিপিএসএসসির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এম/এসআই