নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নির্ধারিত ডিসেম্বর মাসের আগেই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রথম ছয় মাসের মধ্যে তা ১১০০ মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বর্তমানে সি-স্টেজে রয়েছে। এ পর্যায়ে প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে। এর মাধ্যমে জেনারেটর চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগোলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে চান না মন্ত্রী। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে প্রতিটি কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়।
নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি খুলে পুনরায় পরীক্ষা ও মেরামত করা হবে। প্রয়োজনে একই প্রক্রিয়া দুই, তিন কিংবা চারবারও অনুসরণ করা হবে। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না।
তিনি জানান, একটি ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। কেন্দ্রটির বিজ্ঞানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রথমে ৩০০ মেগাওয়াট দিয়ে উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ অগ্রগতি নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাজের ওপর।
প্রসঙ্গত, পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হলে দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে নতুন এক উৎস। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর কেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে অগ্রসর হওয়া দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদ্যুতের চলমান যে সংকট, রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে তা কিছুটা হলেও কাটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেবি