জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনে সরকারবিরোধী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কাজ হবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, বর্তমানে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরানোর সময় কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি দাবি করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি।
এর আগে শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুরের তিন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা সড়কে থাকা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এতে ওই এলাকার সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন লোকজন। পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার সেল মারতে থাকে। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগেও শনিবার শ্রমিকরা মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে একই দাবি জানিয়েছিল।
এমআইকে/এফএ