ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এসব এলাকার প্রায় ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কোথাও শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন, কোথাও পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে আশপাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন।
দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ এবং ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে তাঁরা কর্মসূচি পালন করছেন। বিভিন্ন অজুহাতে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ অন্যতম। এ দাবির বিষয়ে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপরও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন।
সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানায় ছুটি
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। পরিস্থিতির কারণে অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
পরে বিকেলে তিনি জানান, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১১৭টি তৈরি পোশাক কারখানা রোববারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিকেলে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা একত্র হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই পথে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
গাজীপুরে শতাধিক কারখানায় ছুটি, আগুন
শিল্প পুলিশ-২-এর গাজীপুরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, রোববার সারা দিনে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের মধ্যে দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি কারখানার গুদাম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ২৮
এদিকে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর ১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলে প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত।
এ সময় মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ, যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুরের দিকে মিরপুর ১০, মিরপুর ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
মিরপুরে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ২৮ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এআর




