Dhaka Mail Logo

জাতীয়

আজ থেকে ৬ রুটে চালু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। রোববার (১ নভেম্বর) থেকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি কোম্পানির অধীনে ৮১৬টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের আলোচিত এই উদ্যোগের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো বাকি। আপাতত পুরোনো বাস দিয়েই শুরু হচ্ছে নতুন এই ব্যবস্থা।

আজ দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় কোম্পানিভিত্তিক পরিচালনার নতুন পর্যায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয়টি কোম্পানি চারটি রুটে নন-এসি এবং দুটি রুটে নন-এসি ও এসি বাস পরিচালনা করবে। এ ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট রুটের সব বাস একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা। বাসমালিকেরা তাদের বিনিয়োগের অনুপাতে আয় পাবেন।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস চালাবে ভিআইপি পরিবহন নামের বাস কোম্পানি। মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার রুটে ১৩৩টি বাস পরিচালনা করবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি।

অন্যদিকে ঘাটারচর থেকে ডেমরা পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার রুটে ৭০টি বাস চালাবে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার রুটে ১৫০টি বাস পরিচালনা করবে ফোর স্টার বাস লাইন। ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রুটে ১৯০টি বাস চালানোর দায়িত্ব পেয়েছে পিএনপি সিটি সার্ভিস।

এ ছাড়া টঙ্গী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকা চাকাকে ঘিরে।

প্রস্তাবিত রুটগুলোর কয়েকটিতে আগে থেকেই একাধিক পরিবহন কোম্পানির বাস চলাচল করছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ভিআইপি, বিকাশ, দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, রজনীগন্ধা, মালঞ্চ, সময়, মিডলাইন, পরিস্থান ও প্রজাপতি পরিবহন। নতুন ব্যবস্থায় এসব পরিবহনের বাস চলাচল কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

এর আগে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ চালু করা হয়েছিল। তখন ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে ১৫৫টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও শুরুতে নামানো হয়েছিল মাত্র ৫০টি বাস। একই রুটে আগে থেকে চলাচল করা অন্য পরিবহন কোম্পানির বাস বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত নানা সীমাবদ্ধতায় লোকসানের মুখে পড়ে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় সেই উদ্যোগ।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর ৯৮টি সচল বাস রুট সমন্বয় করে ৩২টি রুটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটে পুরোনো বাসই চলবে। থাকছে না ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও।

ফলে নতুন এই উদ্যোগে বাসের সময়সূচি ও নির্ধারিত স্টপেজ ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহনগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ভাড়া আদায়ে বিশৃঙ্খলা এবং যাত্রীসেবার মান কতটা উন্নত করা সম্ভব হবে, সেটিও দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শুরুতে নির্ধারিত সময়সূচি ও স্টপেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। পরে ই-টিকিটিং চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি রুটে শ্রমিক সংগঠন ও অভিজ্ঞ চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে চালক ও সহকারীদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারা কোনোভাবে বঞ্চিত না হন।

টিএই/এফএ