Dhaka Mail Logo

জাতীয়

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন রোববার, শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে এই বোর্ড গঠন করা হবে। একই দিন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল শ্রমিক সংগঠনগুলোর, বিশেষ করে পোশাকশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনার ভিত্তিতেই আগামীকাল মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রোববার বোর্ড গঠনের ঘোষণা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এরপর শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ থাকার কথা নয়। ’

তবে শ্রমিকরা কাজে ফিরতে চাইলেও ‘বাইরে থেকে কিছু লোক’ কারখানার গেটে গিয়ে তাদের উসকানি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাইরে থেকে একটি সংঘবদ্ধ দল শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। তারা প্রকৃতপক্ষে শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না কিংবা শ্রমিকদের দাবির প্রতি তাদের আন্তরিকতা কতটুকু, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে কেউ কেউ দেশের শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন।’

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণ শ্রমিকদের অন্যতম দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন। সেই দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বোর্ড গঠন হয়ে গেলে সমস্যা কোথায়? এ অবস্থায় ভাঙচুর কিংবা কারখানা বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গার্মেন্টস শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। ’

বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের অসন্তোষের আর কোনো কারণ থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানায় ফিরে উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নেবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এম/এএম