জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
রাজধানীর তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের তথ্য বের হয়ে আসছে। তার পরিচিত ছোট ভাই দ্বীপ দাবি করেছে, সেই সময় কিছু লোকজনকে দেখে তারা দৌড় দেন। এ সময় নদীতে ঝাঁপ দেয় তাহসিফ সাউরি। কিন্তু ওই লোকজন আসলে কারা ছিল তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এদিকে বিষয়টি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে খোলাসা করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
এনায়েত হোসেন বলেন, দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘তাদেরকে পুলিশের পোশাকধারী দুইজন ধাওয়া করেছিল। তাদের দেখে ওরা দৌড় দিয়েছে।’ এখন তারা কারা, তা আমরা যাচাই করে দেখব। আদৌ কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, ইউনিফর্ম পরা পুলিশ ছিলেন কি না কিংবা কারও দায়িত্ব ছিল কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতিটি তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তা প্রকাশ করা হবে।
ওই সময় রাত ছিল ২টা। সাউরি এত রাতে কেন ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাওয়ার কারণ কী; তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে পিবিআইয়ের তদন্তকারীদের মনে। তারা এই কারণ খুঁজতে এখন মাঠে নেমেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে একটি ১৫০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই। তবে সেটি তাহসিফ সাউরির কি না তা যাচাই চলছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাতে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ সাউরি। ওই সময় তার মাকে জানান তার বন্ধু বা ছোট ভাই দ্বীপ এসেছে। এরপর দুজনে বাসা থেকে বের হন। যা পরে সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু এরপর তারা কোথায় যান তা জানতো না তার পরিবার। এরপর রাত দেড়টার দিকে তাহসিফ সাউরি তার মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠান, মা আসতেছি। কিন্তু পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
বিকেলে পুলিশ জানায়, তুরাগ নদে একটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে সাউরির পরিবার। তবে এ ঘটনায় তার বাবার দাবি, তার ছেলে আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে কেউ হত্যা করেছে।
এমআইকে/এফএ