বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বিমান বাহিনীর নিহত সাবেক কর্মকর্তা কে এই তাহসিফ সাউরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বিমান বাহিনীর নিহত সাবেক কর্মকর্তা কে এই তাহসিফ সাউরি
ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি / সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে এক পডকাস্টে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগেই তাকে বিমান বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে ভিডিওটি ধারণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ কী। একই সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেছেন।

গত ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশীদ’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাহসিফ তার চাকরিচ্যুতি, বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা এবং গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সেই ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার বহুল আলোচিত ভিডিও ধারণের সঙ্গে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নাম জড়িয়ে পড়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। পরবর্তীতে বিমান বাহিনী থেকে তার অবসর নেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।

এবার রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার বিকেলে রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া কে এম তাহসিফ সাউরির বয়স হয়েছিল ২৮ বছর। তার বাবার নাম কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন তিনি।

তার পরিচিতজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাহসিফ ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ৭৯তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সমমানের জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স সম্পন্ন করে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি সামরিক পাইলট হিসেবে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তাহসিফের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বায়োতে লেখা রয়েছে: ‘Veteran Military Pilot | Strategist | Entrepreneur’ সবশেষ মৃত্যুর তিন দিন আগে ফেসবুকে রাজধানীর ভাটারায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, ‘Lol! Shame on DMP, Government needs to verify this case’ তার ফেসবুক আইডিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ফলোয়ার রয়েছে।

Sauri4

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছে, সে আত্মহত্যা করেনি।’

আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমার ছেলের পার্সোনালিটি  স্ট্রং ছিল। সে একটি বাহিনীতে চাকরি করত। সে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় নিয়ে ফেলা হয়েছে।’

ঘটনার দিন ২৭ অক্টোবর সারাদিন তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গেই ছিল বলে জানান এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, ‘তার (তাহসিফ) মাকে নিয়ে শপিং করেছে, আমার জন্য কেনাকাটা করেছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দ্বীপ নামের একজন তাকে ডাকলে সে তার মাকে বলে— আমি দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে আসি। এরপরে আর সে ফিরে আসেনি। তারপর ওর মা একাধিকবার ব্যক্তিগত নম্বরে কল দেয়। কিন্তু তাকে লাইনে পায়নি। পরে সর্বশেষ রাত ১টার পর তার মাকে মেসেজ করে, আম্মু আমি বাসায় আসতেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল দুপুরের দিকে তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম। তারা বলে এখনো কোনো খোঁজখবর নেই। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দক্ষিণ থানায় থেকে কল আসে। ওসি সাহেব আমার এবং ছেলের নাম-পরিচয় শুনে নিশ্চিত হওয়ার পর বলেন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। ভাটিপাড়াতে গিয়ে সামনে রাজাবাড়ি ঘাট। ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনোই যায় না। তারপরও এই ঘটনা ঘটে গেল।’

কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘কে বা কারা হত্যা করেছে, এটা আমরা জানি না। এটা পুলিশের তদন্তে বের হবে।’

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের বিমানবাহিনীতে চাকরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু বাহিনী থেকে কী ধরনের ডিসিপ্লিন বা কোন ডিসিপ্লিনের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে— সেটা জানানো হয়নি। এরপর সে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নেত্র নিউজে চাকরি করত। সবশেষ ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে চাকরি করত। সে খুবই নম্র-ভদ্র এবং সামাজিক প্রকৃতির ছেলে ছিল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।’

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মরদেহ তার বাবা ফ্রিজিং ভ্যানে করে নিয়ে যান। উত্তরায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

৫ আগস্টের ভিডিও নিয়ে আলোচনা কেন?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের উত্তুঙ্গ পর্যায়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করেন। ওই দিন গণভবন এলাকা থেকে তার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ভিডিওটি ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফ সাউরির নাম জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তাকে ওই ভিডিওর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সেই ভিডিওটি তিনি ধারণ করেননি বলে নিজেই তা অস্বীকার করেছিলেন। তার পরিচিতজনদের কারও কারও দাবি, এ ঘটনার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়েছিল।

Sauri5

বিমানবাহিনী ছাড়লেন কেন?

তাহসিফ সাউরির বিমানবাহিনী ছাড়ার বিষয়টিও তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীকে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর দেওয়া হয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের অবসরের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবি করা হয়েছিল। আইএসপিআর সেই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছিল।

ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে তাহসিফ সাউরি বলেন, ‘প্রথমত, আমার মনে হয়, ‘গণমাধ্যমে’ যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, সেটি দিয়ে তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য কী, আমি জানি না। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে, আমি ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি ভিডিওটি ধারণ করেছি, এমন কথা তারা বলেনি। তারা বলেছে, রিফাত আশরাফি ভিডিওটি ধারণ করেছেন এবং আমি সেটি ছড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি যদি ভিডিওটি ধারণ করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি, তাহলে এর প্রমাণ কী? আমি সেটি জানতে চাই। এটাও হতে পারে, এ কারণেই হয়তো আজ আমি বিমানবাহিনীতে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘হতে পারে, ওই সময় যেসব ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলোর সবকিছু আমি বলব না। আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমার মনে হয়, এই অভিযোগের কারণেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘গণমাধ্যম’-এর প্রতিবেদনটি দেখুন। সেখানে লেখা হয়েছে, আমি ভিডিওটি ভাইরাল করেছি। আবার প্রতিবেদনটির যে টেমপ্লেট তৈরি করা হয়েছে, তার শিরোনাম ছিল ‘বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে র-এর নেটওয়ার্ক ফাঁস’। সেখানে চারজনের ছবি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আমার ছবিও রয়েছে। এটি আমার সঙ্গে একেবারেই প্রাসঙ্গিক নয়। ‘র’-এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মানুষ পুরো প্রতিবেদন পড়ে না; অনেকেই শুধু শিরোনাম দেখেই ধারণা করে নেয়। এ কারণে আমাকে সামাজিকভাবে বিব্রত হতে হয়েছে এবং হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। একটি ভুল প্রতিবেদনের কারণে আমাকে এসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি যদি ‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতাম, তাহলে বাংলাদেশে কেন থাকতাম? আর সংশ্লিষ্ট থাকলে প্রকাশ্যে কথা বলতাম কেন? একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাজ তো এভাবে ঘুরে বেড়ানো নয়। এটি খুবই হাস্যকর একটি অভিযোগ। আইএসপিআরের বিবৃতিটি একটু পড়ে দেখবেন। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আমার এ ধরনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যেও বিষয়টি পরিষ্কার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাকরি ফিরে পাবার জন্য আপিল করিনি। ভবিষ্যতে করব কি না, জানি না। হয়তো কোনো একসময় বিষয়টি ভেবে দেখব। তবে আমার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছিল। আমি মনে করি, এটি আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। এ বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই মনঃক্ষুণ্ন। এর জন্য আমাকে দুই বছর ভুগতে হয়েছে। এখন পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো, একজন পাইলট হিসেবে আমার ফ্লাইং আওয়ারগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এটি একজন পাইলটের জন্য খুবই সংবেদনশীল বিষয়। কর্তৃপক্ষ চাইলে সেগুলো আমাকে দিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এখনো দেওয়া হয়নি। হয়তো কোনো একদিন দিয়ে দেবে। সেদিন আমি খুব খুশি হব। কারণ, আমি আবার আমার ফ্লাইং ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে পারব।’

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি বলেন, ‘বিমানবাহিনীর প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই, কোনো অভিযোগও নেই। আমার অভিযোগ সেই মানুষগুলোর বিরুদ্ধে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কারও স্বার্থে কাজ করেছেন এবং আমাকে হয়রানি করেছেন। ওই সময় এয়ার ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক যিনি ছিলেন, তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তিনি আমাকে স্বেচ্ছায় অবসরের একটি আবেদন লিখে তাতে স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমি সেটি করলে তিনি আর আমাকে হয়রানি করবেন না। আমি আবেদনটি দেওয়ার পরও বলেছিলাম, আমাকে গ্রেফতার করা হোক, আমার কোর্ট মার্শাল করা হোক। কিন্তু এর কোনোটিই করা হয়নি। বরং আমাকে একেক দিন একেক জায়গায় রাখা হয়েছে। আমার সঙ্গে এসব আচরণ অন্যায় ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন গ্রুপ ক্যাপ্টেন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। তিনি এখন এয়ার কমোডর হয়েছেন। তাকে অভিনন্দন জানাই। আমি স্যারকে খুবই ভালোবাসি। কিন্তু তাদের কিছু কর্মকাণ্ড আমার সঙ্গে অন্যায় ছিল। সত্যকে বদলে দেওয়া, ঘটনার বয়ান পরিবর্তন করা এবং নির্দিষ্ট একজন মানুষকে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া যাতে তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারেন বা সত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন এসব অন্যায়। আমি অবশ্যই এগুলোকে অন্যায় বলব।’

শেষে তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে অনেক ভালো বলবে, আবার কেউ অনেক খারাপ বলবে। তবে আমি সবার সঙ্গে ভালোভাবে মিশতাম। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলাম। মানুষের উপকার করতাম, নিজের স্বার্থের কথা না ভেবেই কাজ করতাম। এ কারণেই অনেকের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে সম্পর্ক ভালো থাকার অর্থ এই নয় যে, সবাই সব সময় পাশে ছিল। যখন আমার বিরুদ্ধে পরিস্থিতি তৈরি হলো, তখন আমি আসলে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। এমনকি ওই সময় আমি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারিনি।’

যেভাবে মিলল মরদেহ

গত মঙ্গলবার রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরদিন বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ তথ্য আসে যে, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসছে।

খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। নৌ পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা। হাতে ছিল ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন। ওই ফোনের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বৃহস্পতিবার নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মরদেহের শরীরে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। আঘাতের চিহ্ন না থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর