Dhaka Mail Logo

জাতীয়

পর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জরুরি: সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, পর্যটন শুধু মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘১৪তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেলা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনিন কাওসার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে শুধু আকর্ষণীয় গন্তব্য থাকলেই চলবে না। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসম্মত সেবা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, বিমান ও অন্যান্য পরিবহন এবং খাবারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উন্নয়ন হলে পর্যটকদের সন্তুষ্টি বাড়বে।

‘পর্যটন খাতের চাহিদা একক প্রচেষ্টায় পূরণ করা সম্ভব নয়’

তিনি বলেন, পর্যটন খাতের সব চাহিদা সরকার কিংবা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের একক প্রচেষ্টায় পূরণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।

পর্যটন খাতের নীতিগত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে সচিব বলেন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভিসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া খাতটির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পর্যটন খাতের মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনায় আরও কোনো পরিবর্তন বা সংযোজনের প্রয়োজন হলে তা বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারেন। প্রয়োজনে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

‘প্রচলিত পর্যটন ধারণার বাইরে গিয়ে বৈচিত্র্যময় গন্তব্য তৈরিতে উদ্যোগ নিতে হবে’

আঞ্চলিক পর্যটন বিকাশে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, ভারত ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে একটি পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি পর্যটন খাতের অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সচিব।

পর্যটনসেবা সহজ করতে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যটকদের সেবা, সেবাদাতাদের নিবন্ধন এবং ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতের বিভিন্ন সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত পর্যটন ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন পণ্য এবং গন্তব্য তৈরিতে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকরা ভালো অভিজ্ঞতা পেলে অন্যদের কাছে তা তুলে ধরেন, যা নতুন পর্যটক আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, সেবার মান সন্তোষজনক না হলে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করে সচিব বলেন, সব কাজ একসঙ্গে বা এক দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সরকার অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চায়। এ জন্য বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

দেশের পর্যটনশিল্পকে আরও গতিশীল করা, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং টেকসই পর্যটনের ধারণাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০টির বেশি দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

এম/এএম