Dhaka Mail Logo

জাতীয়

আগারওয়ালকে অর্থ পাচারের নতুন মামলায় গ্রেফতারের আবেদন দুদকের

একে সালমান

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

* আয়ের উৎসের সঙ্গে মিল নেই প্রায় ১১৩ কোটি টাকা
‎* ৩৪ টি ব্যাংক একাউন্টে ৭৪৬ কোটি টাকা লেনদেন
‎* স্ত্রীর ৮ ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ২১৪ কোটি টাকার লেনদেন

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগারওয়ালের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং কয়েকশত কোটি টাকার সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর তাকে নতুন করে আরেকটি মানিলন্ডারিং মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর (শোন এরেস্ট) আবেদন করা হয়েছে।
‎
‎রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এই আবেদন করেন।
‎
‎এদিকে, দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লক্ষ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া মানিলন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামে থাকা ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
‎
‎এসব হিসাব পরীক্ষা করে দেখা যায়, এই ৩৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩৪৫ কোটি ৩২ লক্ষ ৬২ হাজার ১২০ টাকা জমা এবং ৩৯৯ কোটি ৯৭ লক্ষ ৯৪,১৪০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে মোট ৭৪৫ কোটি ৩০ লক্ষ ৫৬ হাজার২৬০ টাকার বিশাল ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
‎
‎দিলীপ আগারওয়ালের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গত ৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলাটি (মামলা নং-০৭) রুজু করা হয়েছিল।

‎দিলীপ কুমার আগারওয়ালসহ আরও দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা

‎দিলীপ কুমার আগরওয়ালার স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালার নামে ৪২ কোটি ৭০ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। যা তার আয়ের ৮৭.৯৭%।তার মোট ৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০৭ কোটি ২০ লক্ষ ৭১ হাজার ৫১ টাকা জমা এবং ১০৬ কোটি ৮ লক্ষ ২ হাজার ৮৭৬ টাকা উত্তোলনসহ মোট ২১৩ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৩ হাজার  ৯২৭ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
‎
‎পাশাপাশি, ধানমন্ডির বাসিন্দা এনামুল হক খান এর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৬৫১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অসংগতিপূর্ণ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। তার মোট ১২টি ব্যাংক হিসাবে ৯২ কোটি ৩১ লক্ষ ২৮ হাজার ৪২৪ টাকা জমা এবং ৯২ কোটি ১৬ লক্ষ ৫ হাজার ৮১৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তার ব্যাংক একাউন্টে ১৪৪ কোটি ৮৯ লক্ষ ৪ হাজার ২৪২ টাকা সন্দেহজনক লোনদেন পাওয়া গেছে।
‎
‎এছাড়াও, এনামুল হক খানের স্ত্রী শারমিন খান এর অবৈধ সম্পদ খুঁজে পেয়েছে দুদক। তার নামে ৭ কোটি ৩৭ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিকানা পাওয়া গেছে, যা তার আয়ের ৭৭.৫২%। তার ৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ কোটি৭১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৮১০ টাকা জমা এবং ২ কোটি ৫১ লক্ষ ৩ হাজার ৩৫৮ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৫ কোটি ২২ লক্ষ ৯০ হাজার ১৬৮ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন খুঁজে পেয়েছে দুদক।
‎
‎উল্লেখ্য, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বর্তমানে গুলশান থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছেন। নতুন এই মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো (শোন এরেস্ট) অত্যন্ত জরুরি বলে বিজ্ঞ আদালতকে জানিয়েছে দুদক।

‎একেএস/এআরএম