Dhaka Mail Logo

জাতীয়

দুই মাস না পেরোতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘পিংক বাস’

আব্দুল হাকিম

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

  • প্রতিদিন ৫০–৬০ হাজার টাকার ভর্তুকি
  • নির্ধারিত স্টপেজে থামছে না পিংক বাস
  • বিকেল পর্যন্ত ডিপোতে অলস পড়ে থাকে বাস
  • অনিশ্চিত সময়সূচিতে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
  • বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ১০০ আধুনিক বাস
  • যথাযথ যাচাই ছাড়াই পিংক বাস চালুর অভিযোগ

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চালু করা ‘পিংক বাস’ সেবা দুই মাস না পেরোতেই নানা সংকটে পড়েছে। যাত্রী পাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ না করা, নির্ধারিত স্টপেজে বাস না থামানো, সীমিত ট্রিপ এবং পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় কম আয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ব্যস্ত সময়ে বাসগুলোতে যাত্রী থাকলেও দিনের বড় একটি অংশ সেগুলো ডিপোতে অলস পড়ে থাকছে। এতে নারীদের জন্য বিশেষায়িত এই সেবার পরিচালনব্যবস্থা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় ১৪টি বাস নিয়ে পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি বাস রয়েছে। শুরুতে নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ ঘিরে আগ্রহ তৈরি হলেও বাস্তব পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা সামনে আসছে। বাসের সংখ্যা বাড়ানো, নারী চালক নিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের চাহিদার সঙ্গে সেবাটির পুরোপুরি সমন্বয় এখনো হয়নি।

জানা গেছে, সেবা চালুর প্রথম দিকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫০ জন যাত্রী পিংক বাসে চলাচল করতেন। এক মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনে পৌঁছায়। ১৯ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ দিনে বাসগুলো মোট ২৭২টি ট্রিপ পরিচালনা করে। এ সময়ে প্রায় ২১ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। 

ওই ২০ দিনে ভাড়া বাবদ আয় হয় প্রায় তিন লাখ টাকা। গড়ে প্রতিদিন আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। বিপরীতে পরিচালন ব্যয় মেটাতে একই সময়ে সরকারকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। 

b

তবে শুধু ভর্তুকির পরিমাণ দিয়ে সেবাটির কার্যকারিতা বিচার করা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত সেবাটি কতজন নারীকে নিয়মিত পরিবহন করছে, কোন রুটে চাহিদা বেশি এবং কেন নির্ধারিত সময়ে বাসগুলো পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছে না, তার বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী রুট ও সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা না গেলে ভর্তুকি বাড়িয়েও সেবাটিকে জনপ্রিয় করা কঠিন হবে।

বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার ১৩টি রুটে ১৪টি বাস নামানো হয়। ঢাকার ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস চলাচল করছে। বগুড়ার দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং চট্টগ্রামের একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস পরিচালনা করা হচ্ছে। বাসগুলো বিভিন্ন এলাকায় নারীদের কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে চালু করা হয়। 

বিআরটিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বাসগুলো যাত্রা শুরু করে। ঢাকায় বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে এবং বগুড়া ও চট্টগ্রামে দুপুর ১টা ও বিকেল ৩টার দিকে বাস চলাচল করে।

পিংক বাস চালুর সময় বিআরটিসি জানিয়েছিল, ঢাকা মহানগরীর ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু অনেক যাত্রীর অভিযোগ, অপেক্ষমাণ যাত্রী না থাকলে নির্ধারিত স্টপেজেও বাস থামছে না। ফলে বাসটির রুটের মধ্যে অবস্থান করলেও অনেকে সেটিতে উঠতে পারছেন না। নিয়মিত যাত্রীদের বাইরে নতুন যাত্রী আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এটি বাধা তৈরি করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নারী চালকেরা এখনো প্রতিটি স্টপেজে দাঁড়িয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করার অভ্যাস তৈরি করতে পারেননি। অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচলের মধ্যে প্রতিটি স্টপেজে বাস থামানো এবং আবার যানবাহনের ভিড়ে প্রবেশ করা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে কেউ কেউ এই ঝামেলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। তবে ধীরে ধীরে তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।

b

যাত্রীরা বলছেন, বাস কখন ছাড়বে এবং কোন স্টপেজে কখন পৌঁছাবে, তার নির্ভরযোগ্য সময়সূচি না থাকায় অনেকে পিংক বাস ব্যবহার করতে পারছেন না। দুই বেলা বাস চলাচল এবং নির্ধারিত স্থানে বাস পাওয়ার অনিশ্চয়তা কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা। অফিসে বা ক্লাসে যাওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার সুযোগ সবার থাকে না। ফলে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও নির্ভরযোগ্য সময়সূচি না থাকলে যাত্রীরা বিকল্প গণপরিবহন বেছে নিতে বাধ্য হন।

পিংক বাসের যাত্রীদের একটি বড় অংশ কর্মজীবী নারী ও ছাত্রী। তাদের জন্য বাসটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, বিশেষ করে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, ধাক্কাধাক্কি ও হয়রানির অভিজ্ঞতার কারণে। তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া নারীদের একটি বড় অংশ রাজধানীতে যাতায়াত করেন কোনো পুরুষ সঙ্গীকে নিয়ে। যেহেতু পুরুষসহ বাসে ওঠার সুযোগ নেই, এ কারণেও অনেকে এসব বাসে চড়েন না। 

মিরপুর থেকে মতিঝিলে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী জেবা জান্নাত মায়শা (৩১) আগে সাধারণ বাসে চলাচল করতেন। পিংক বাস চালুর পর থেকে তিনি প্রতিদিন এই বাসে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। তিনি জানান, শুরুতে সময়সূচি নিয়ে সমস্যা থাকলেও পরে কিছুটা নিয়মিততা এসেছে। মিরপুর-১২ থেকে আসা বাসটি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে মিরপুর গোল চত্বর এলাকায় পৌঁছায়। তবে বাসটির জন্য আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ অপেক্ষা জন্য বাড়তি সময়ের চাপ তৈরি করে।

গত রোববার ফার্মগেট এলাকায় এক নারীকে দৌড়ে পিংক বাসে ওঠার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে সেখানে নির্ধারিত স্টপেজ না থাকায় উঠতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত তিনি সাধারণ বাসে ওঠেন। 

শাইলা জাহান মিষ্টি নামে এক যাত্রী ঢাকা মেইলকে বলেন, নারী চালকেরা বেশি সতর্কতার সঙ্গে বাস চালানোর কারণে কিছুটা ধীরগতি দেখা যায়। তবে এই অভিজ্ঞতা দিয়ে সব নারী চালকের দক্ষতা বা বাসের গতি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বাসের গতি নির্ভর করে সড়কের অবস্থা, যানজট, রুট, যাত্রী ওঠানামা এবং চালকের প্রশিক্ষণের ওপরও। সেবার মান মূল্যায়নে তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিয়মিত চলাচলের তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

b

এদিকে মতিঝিল ডিপোতে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বাজার, তালতলা, মিরপুর, মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মোহাম্মদপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বাসগুলো সকালের ট্রিপ শেষ করে ডিপোতে দাঁড়িয়ে আছে। বিকেলে নির্ধারিত সময়ে আবার সেগুলো যাত্রী পরিবহনের জন্য বের হয়। যাত্রীদের গন্তব্যে নামিয়ে দিয়ে বাসগুলো আবার মতিঝিল ডিপোতে রাখা হয়।

পিংক বাস সার্ভিসের কার্যকারিতা নিয়ে পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিসকে অদূরদর্শী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ বা জরিপ ছাড়াই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, পিংক বাস কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই বা যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হুট করে মাথায় একটা চিন্তা এসেছে, সেটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। 

রাজধানীর নারীরা বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করেন। অল্পসংখ্যক বাস দিয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করালে রাজধানীর সব এলাকার নারীরা এই সেবার সুবিধা পাবেন না। আলাদা করে নারীদের জন্য বাস চালু করা কোনো টেকসই পরিকল্পনা নয়। রাজধানীতে রুটভিত্তিক পদ্ধতিতে বাস পরিচালনা করতে হবে। নতুন ও আধুনিক বাস নামাতে হবে। সব বাস নারী, পুরুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী করতে হবে। আলাদা করে নারী, পুরুষ বা অন্য শ্রেণির মানুষের জন্য বাস ভাগ করে দিলে গণপরিবহনের সমস্যার সমাধান হবে না।

সাইদুর রহমান বলেন, বিআরটিসি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। এই লোকসান কমানোর জন্য কার্যকর কোনো পদ্ধতি অবলম্বন না করে বাস ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পিংক বাসের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, সকালে শিক্ষার্থী ও অফিসগামী যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার পর বাসগুলো দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকছে। পরে বিকেলে আবার যাত্রী নিয়ে ফিরছে। দিনের বাকি সময়ে সাধারণ মানুষ গণপরিবহনের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরাও প্রয়োজনীয় পরিবহনসেবা পাচ্ছেন না। অথচ বিআরটিসির বাসগুলো সারাদিন রাস্তায় চালানো গেলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

s

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ভালো কাজ দেখানোর পাশাপাশ দুর্নীতির বিষয় থাকতে পারে এসব বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। বিআরটিসি একটি ব্যর্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। জনগণের টাকায় বাস কিনে মানুষের পরিবহনসেবা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও সেই সেবা যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না। বরং বাসগুলো অলস পড়ে থাকছে এবং লোকসান বাড়ছে।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, পিংক বাস চালু করার আগে যথাযথ পরিকল্পনা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। আগের উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ার পরও একই ধরনের উদ্যোগ আবার নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) প্রশাসন ও অপারেশন পরিচালক মো. রাহেনুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, পিংক বাস সার্ভিসে এখনো লোকসান হচ্ছে। তবে বিআরটিসি একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবেচনা করলে হবে না, জনগণকে সেবা দেওয়াটাই মূল বিষয়। বিশেষ করে নারীদের জন্য এ ধরনের সেবা চালু করতে পেরে আমরা গর্বিত।

রাহেদুল বলেন, নতুন গাড়ি যুক্ত হলে সেবার মান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও চলছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস যুক্ত করা গেলে যাত্রীদের কাছে সেবাটি আরও আকর্ষণীয় হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজকে লক্ষ্য করে সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যাত্রীসংখ্যা বাড়তে পারে।

রাহেনুল ইসলাম আরও বলেন, পিংক বাসে বর্তমানে কিছুটা লোকসান হলেও এটিকে শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বর্তমানে লোকসান হলেও সরকার অন্যভাবে তা পুষিয়ে দেবে বলে আশা করছেন তারা।

S

নারীদের স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য ১৩টি রুটে চলমান ১৪টি পিংক বাসের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় আরও ১০০টি বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠকে পিংক বাস বাড়ানোর কথা জানানো হয়। বাসগুলো তুলনামূলক ছোট আকারের হবে। এতে ওয়াই-ফাই, সিসি ক্যামেরা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। 

বৈঠকে জানানো হয়, নারীদের স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য ১৩টি রুটে চলমান ১৪টি পিংক বাসের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় আরও ১০০টি বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেটা সোজা ও প্রশস্তকরণ এবং নতুন যে সকল প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে সেগুলো স্ট্রেইট লাইন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।   

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, সেবাটি গ্রহণে নারীদের আগ্রহ বাড়তে থাকায়, বহরে ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করারও পরিকল্পনা করছে সরকার। এটা গ্রহণযোগ্যতার সৃষ্টি করেছে। সরকার যখন ইলেকট্রিক বাসে যাবে, তখন অনেক বাস পিংক বাসের সঙ্গে ইলেকট্রিক বাস সংযুক্ত করা হবে। 

সম্প্রতি সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পরিবহনব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে সরকার কাজ করছে। ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাসের ব্যবহার বাড়ানো হবে। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও ইভি বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারী যাত্রীদের জন্য ১০০টি পিংক কালারের ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এএইচ/জেবি