Dhaka Mail Logo

জাতীয়

সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন স্থানে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করে ২০২৯ সালের মধ্যে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫১ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। সেখানে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনগুলোর মোট আয়তন হবে প্রায় ৩২ লাখ বর্গফুট। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে অফিস কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

আরও পড়ুন

ওটিপি ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না সচিবালয়ে

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওই বৈঠকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থাপত্য অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরনো মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় গড়ে তোলা হবে। স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়ের পরিবর্তে নতুন কমপ্লেক্স থেকেই সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আরও পড়ুন

সচিবালয় থেকে মাঠপ্রশাসন: ড্রাইভিং সিটে নারী নেতৃত্ব

এদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোক্তায় প্রস্তাবিত ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নামকরণের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে।

এছাড়া আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো এবং আগামী গ্রীষ্মের পূর্বেই ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে (OPEX Model) অথবা নিজস্ব আয়ের সুবিধায় (CAPEX Model) সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে (১৫ বছর) বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া ও সার্ভিস প্রোভাইডারের নীতিগত জটিলতা দূর করতেই বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক খসড়া অধ্যাদেশটি তৈরি করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ১৯৯৮ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি ‘Rotterdam Convention on the Prior Informed Consent Procedure for Certain Hazardous Chemicals and Pesticides in International Trade’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির (Accession) প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল বাংলাদেশ ও ভুটান ব্যতীত সবাই এই ১৬৭ দেশের কনভেনশনটির সদস্য।কনভেনশনে যুক্ত হওয়ার ফলে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের ডেটাবেজ প্রণয়ন, কেমিক্যাল ট্র্যাকিং, বৈদেশিক অর্থায়ন বৃদ্ধি, ১৬৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সাথে বৈজ্ঞানিক ও আইনি তথ্য বিনিময় এবং রটারডাম সচিবালয় থেকে কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিইউ/জেবি