Dhaka Mail Logo

জাতীয়

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে গ্রেফতার হবেন হকাররা: ডিএসসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সড়ক ও ফুটপাতে হকারি করলে মালামাল জব্দ করা হবে। প্রয়োজনে তাদের গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে আদালতে হাজির করা হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে ডিএসসিসির ক্লিনিং ডে উপলক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার চেষ্টা করছে সিটি করপোরেশন। তবে কিছু ভাসমান হকার কোনো নিয়মকানুন মানছেন না। এ বিষয়ে হকারদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকে হকার নেতারা নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনায় সম্মত হলেও সড়কে বসা অনেক হকার তা মানছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে হকারদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে এবং প্রত্যেককে নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ করা হবে। নিবন্ধনের বাইরে কাউকে ঢাকা শহরে হকারি ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, রাজধানীর কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত পরিসরে হকার বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় ফুটপাত প্রশস্ত এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না, সেসব স্থানেই হকার বসতে পারবেন। এর মধ্যে গুলিস্তান ও নিউমার্কেটের কিছু এলাকা রয়েছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ফুটপাতে হকার বসার অনুমতি নেই। মূল সড়কেও হকার বসতে পারবেন না।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, যেসব এলাকায় সড়কে হকার বসবেন, সেসব এলাকার ফুটপাতেও হকার বসতে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবৈধভাবে হকার বসতে দেওয়া যাবে না। সড়ক দখল ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে আবদুস সালাম বলেন, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে পলিথিন বা বড় পাত্রে জমা রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। ঝাড়ু দিয়ে ময়লা ফুটপাত বা সড়কে ফেলা যাবে না।

তিনি বলেন, সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর সড়কগুলোতে ঘুরলে ময়লা প্রায় দেখাই যায় না। কিন্তু সকাল ৮টার পর থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলো আবার ময়লায় ভরে যায়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে টিস্যু ও অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, শহর যত পরিচ্ছন্ন থাকবে, রোগবালাইয়ের ঝুঁকি তত কমবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আবদুস সালাম জানান, শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। এ কর্মসূচি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। ডিএসসিসির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারক করা হবে।

বক্তব্য শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নীলক্ষেত মোড় হয়ে আবার সায়েন্সল্যাবে ফিরে আসেন। এ সময় তিনি সড়কের পাশে কোথাও ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে কি না, তা ঘুরে দেখেন। যেসব স্থানে ময়লা পড়ে থাকতে দেখেন, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশ দেন।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে বসানো ভাসমান দোকানও উচ্ছেদ করেন তিনি।

এম/এএস