শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পূজার ছুটিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পূজার ছুটিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের দাবি

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার।

যুবায়ের সিকদার বলেন, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ি ও পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত করবেন। এ সময় গণপরিবহনের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত মাসে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত ও ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১ জন শিশু। সে হিসাবে গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক ১৫৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী এবং ৫৩ জন চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত ৬৯১টি যানবাহনের মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল, ১২৯টি তিন চাকার যান এবং ১১৩টি বাস ছিল।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি জানায়, ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। পথচারীকে ধাক্কা বা চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১০৯টি। এ ছাড়া মুখোমুখি বা একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে ৯৮টি এবং পেছন থেকে আঘাতের কারণে ৬১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সর্বোচ্চ ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৫২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত ও চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে, ২৩টি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বলেছে, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মহাসড়কে অপর্যাপ্ত সার্ভিস লেন, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দুর্বলতা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা ও গতিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে যানবাহনের গতি নজরদারি, ই-প্রসিকিউশন চালু এবং চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষাপদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে প্রয়োজনীয় সংস্কার, সড়ক বিভাজক স্থাপন এবং দৃশ্যমান নির্দেশক বোর্ড বসাতে হবে। পথচারীদের নিরাপত্তায় ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং মাদকাসক্তি শনাক্তকরণ পরীক্ষা কার্যকর করার সুপারিশ করেছে পরিষদ। চালকদের টানা আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো বন্ধ, দূরপাল্লার বাসে বিকল্প চালক রাখা এবং চালক ও সহকারীদের নির্দিষ্ট বেতন, নিয়োগপত্র ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা, মহাসড়কে ধীরগতির ও অযান্ত্রিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টার কার্যকর রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বা ছাদে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে তাঁকে সতর্ক করতে হবে। মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার এবং মহাসড়ক পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। ভ্রমণের সময় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা এবং বাড়ি ছাড়ার আগে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগসহ বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি কামারুন নাহার, সাধারণ সম্পাদক সায়মুন নাহার জিদনী, সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার, অর্থ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার এবং উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ও মো. আজাদুর রহমান।

এএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর