জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঢাকা মহানগরীতে শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে; সেই লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ বছর ঢাকা মহানগরীতে মোট ২৫৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজন করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মণ্ডপগুলোকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোর প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা তল্লাশি কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিয়মিত ডিউটির অতিরিক্ত হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সর্বমোট ২০৭২ জন পুলিশ সদস্য ডিউটিতে নিয়োজিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপের আশপাশে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তু সম্পর্কে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, এক্সপ্লোসিভ রিকভারি অ্যান্ড বম্ব ডিসপোজাল টিম, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের জন্য রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পথ, জনসমাগম এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুলতথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখা যায়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত সংক্রান্ত তথ্য চোখে পড়লে তা দ্রুত নিকটস্থ থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ করেছেন ডিএমপি কমিশনার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, মন্দির পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পূজামণ্ডপে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণিসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমআইকে/এফএ