নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসনটি বিএনপির অনুকূলে বরাদ্দ থাকায় এ উপনির্বাচনে বিএনপি বা দলটির জোটের সদস্যরাই ভোটার হিসেবে থাকছেন। আইন অনুযায়ী, আসনটি যে দল বা জোটের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল, শূন্য হওয়ার পরও সেই দল বা জোটের প্রার্থীর মাধ্যমেই তা পূরণ করা হবে। ফলে এ উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জোটের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জোটের ২১৩ জন ভোটারে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বিএনপির ২১০ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসাবে রয়েছেন। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
আইন অনুযায়ী, যে দল বা জোটের সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হয়। সে দল বা জোটই সেই আসনটি পাবে। এতে উপনির্বাচন সংশ্লিষ্ট দল বা জোট ছাড়া অন্য কোনো দল বা জোটের অংশগ্রহণের সুযোগ নাই। এজন্য জামায়াতে ইসলামী জোট এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে করতে পারবে না। যার কারণে তাদের দল বা জোটগত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন,যে দল বা জোটের জন্য আসনটি বরাদ্দ, সেই দল বা জোটই শূন্য আসনটি পাবে। অর্থাৎ, আসনটি যার কোটায়, শূন্য হওয়ার পরও সেই দল বা জোটই আসনটি পাবে।’
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, সংসদে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মোট আসন সংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে সংরক্ষিত মহিলা আসন বণ্টন করা হয়। এরপর ইসি সচিবালয় রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে। পরবর্তীতে ইসির বৈঠকে অনুমোদনের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে অনেক সময় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে প্রতিটি দলের নারী আসনে সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত প্রাপ্ত আসন সংখ্যা × ৫০ ÷ ৩০০—এই সূত্রে নারী আসনের হিসাব করা হয়।
জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য রয়েছেন ৫০ জন। যার মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন ও স্বতন্ত্র একজন।
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইনের ১৬ ধারার অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো আসন শূন্য হলে ওই আসন যে রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে বণ্টিত, সেই দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্য থেকেই আসনটি পূরণ করা হবে। একাধিক আসন শূন্য হলে প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোটের মোট ভোটমানের ভিত্তিতে নির্বাচনের কোটা নির্ধারণ করা হবে।
আইন অনুযায়ী, একাধিক শূন্য আসনের ক্ষেত্রে প্রতিটি বৈধ ব্যালটের ভোটমান ১০০ হিসেবে গণনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা আসনগুলোতে মনোনীত প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের মোট ভোটমানকে ওই দল বা জোটের যতগুলো শূন্য আসন পূরণ করতে হবে, তার সঙ্গে ১ যোগ করে ভাগ করা হবে। এরপর পাওয়া ভাগফলের সঙ্গে ১ যোগ করে যে সংখ্যা পাওয়া যাবে, সেটিই নির্বাচিত হওয়ার প্রয়োজনীয় ভোটের কোটা।
তবে কোনো দল বা জোটের অনুকূলে বণ্টিত একটি মাত্র আসন শূন্য হলে প্রতিটি বৈধ ব্যালটের ভোটমান ১ হিসেবে গণনা করা হবে। ওই দল বা জোটের অনুকূলে বরাদ্দকৃত আসনে মনোনীত প্রার্থীদের পাওয়া মোট বৈধ ভোটকে ২ দিয়ে ভাগ করে তার সঙ্গে ১ যোগ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যাবে, সেটিই নির্বাচিত হওয়ার কোটা।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৭ অক্টোবর। বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল ২৮ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ২৯ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২ নভেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হব ১২ নভেম্বর।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম সামনে আসলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করে তিনি। এরপরই সংসদ সচিবালয় মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা করে।
এমএইচএইচ/এএম