Dhaka Mail Logo

জাতীয়

মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার, ফুটপাত দখলমুক্তের ঘোষণা ডিএনসিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারে ৪৫ দিনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। একই সঙ্গে মোহাম্মদপুরের ফুটপাত অবৈধ হকারমুক্ত করা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মোহাম্মদপুরের বসিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে এসব কথা জানান ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরে তিনি মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট খাল সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার করে নান্দনিকভাবে গড়ে তোলা হবে। আগামী ৪৫ দিন খাল পরিষ্কারের কাজ চলবে। খালটির সৌন্দর্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোহাম্মদপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদের অভিযান স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানিয়েছেন। একইভাবে মোহাম্মদপুরেও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

রাজধানীতে অটোরিকশার চলাচল নিয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, অটোরিকশা এখন ঢাকা শহরের একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন এসব যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করে তিনি জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাড়ি পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় দুটি কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটির ১০টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি দাবি করেন, গত সাত মাসে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ফলে নগরীর পরিবেশের উন্নতি হয়েছে এবং মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে এসেছে। চলতি বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম বলে দাবি করেন তিনি।

সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের প্রশংসা করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরী পরিষ্কার রাখতে তারা সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করছেন। এমনকি ঈদুল আজহার সময়ও বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের।

এ সময় ডিএনসিসির বিভিন্ন কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতা চান প্রশাসক। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে খাল সংস্কার, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ সংস্থাটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এসআই