Dhaka Mail Logo

জাতীয়

সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও নিয়োগ পাননি ৩১ চাকরিপ্রার্থী, মানববন্ধনে ৪ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চাকরিতে যোগদান করতে পারছেন না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের বিভিন্ন পদের ৩১ জন চাকরিপ্রার্থী। তাই চার দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন তারা।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা। এসময় দ্রুত যোগদানের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক পদে মোট ৩১ জন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল ২০২৪ ও ৫ মে ২০২৪ তারিখ উল্লিখিত এইসব পদে লিখিত পরীক্ষা, ১৮মে ২০২৪ তারিখ ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং ০৩ জুন থেকে ১২ জুন ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গত ১৩ জুন ২০২৪ তারিখে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে মোট ৩১ (একত্রিশ) জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তাদের যোগদান প্রদানের মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই ফর্ম পূরণ করেন তৎপ্রেক্ষিতে দুই ধাপে এসবি ও ও এনএসআই কর্তৃক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেও অদ্যবধি প্রায় আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও আমাদের যোগদান পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

তারা জানান, একাধিকবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত আবেদন করেও আমরা কোন সদুত্তর পাইনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তার ই-মেইলেও আমরা মেইল প্রেরণ করি। এই দীর্ঘদিন অপেক্ষার কারণে আমরা চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, আমাদের যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবার একই পদগুলোর জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যার কারণে আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আরও হতাশ হয়ে পড়ি কারণে আমাদের অনেকের এই চাকরির বয়স শেষ হয়ে গিয়েছে এটাই আমাদের বেঁচে থাকার শেষ আশা। আমাদের যোগদান না দিয়ে একই পদে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কারণ আজ অবধি অজানা।

তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ২৯(১) নং অনুচ্ছেদে রয়েছে। প্রজাতন্ত্রে কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে, আমাদের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন এটা জানতে চাই। এজন্য মূলত আমরা সরকারকে আমাদের বিষয়টি জানানোর জন্যই মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বলেন, বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের যৌক্তিক চাওয়া-পাওয়া বেশি থাকে। সরকারও জনগণের যৌক্তিক চাওয়া-পাওয়া পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। সাম্প্রতি আমরা দেখেছি প্রাইমারি স্কুলে চাকরির ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া অনেককে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পুনরায় নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন। এমনকি বিসিএস পরীক্ষায়ও প্রথম পর্যায়ে গেজেটভুক্ত না হওয়া অনেককে বর্তমান সরকার পুনরায় গেজেটভুক্ত করেছেন। সুতরাং সরকারের এই বিষয়ে আন্তরিকতার অভাব নেই। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি আপনি দয়াকরে আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের সুযোগ করে দিন। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর প্রায় আড়াই বছর অতিক্রান্ত হলেও চাকরিতে যোগদান করতে না পারায় আমরা খুবই হতাশ। আমাদের পরিবার আমাদের চাকরির অপেক্ষায় আছে। দয়াকরে এই ৩১টি পরিবারের কথা চিন্তা করে, আমাদের বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করে দ্রুত যোগদান সম্পন্ন করে দেশের সেবায় কাজ করার সুযোগ করে দিন।

তারা বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ কোনো ধরনের অন্যায়/অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নিন। যেহেতু আমাদের একাধিকবার ভেরিফেকেশন সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং আমাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য আপনাদের কাছে আছে। সেই তথ্য অনুযায়ী কেউ অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন অন্যথায় আমরা যারা মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছি তাদের যোগদানের ব্যবস্থা করুন। আর যদি আমাদের মধ্যে কেউ দোষী না হয় তাহলে সবইকে যোগদানের সুযোগ করে দিন।

এসময় ভুক্তভোগীরা মানববন্ধনে চারটি দাবি তুলে ধরেন–

১. চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও আমাদের নিয়োগ না দেওয়ার কারণ কী? এটি মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে জানতে চাই;

২. দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আমাদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে;

৩. আমাদের যোগদানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও সময়সীমা জানাতে হবে;

৪. সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের যোগদান সম্পন্ন না করে একই পদে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন প্রকাশ করা হলো? এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মো. সানাউল্লাহ, মোফাজ্জল হোসেন ও তুষার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/এফএ