Dhaka Mail Logo

জাতীয়

অনলাইনে বন্ধুত্বের ফাঁদ: ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়, হত্যার পর মাটিচাপা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

রাজধানীর কাফরুলে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশের দাবি, অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাকিবের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে মামুনের। পরে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে রাকিবকে কৌশলে বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাকিবের ঘাড় মটকে দেন মামুন। এতে তার মৃত্যু হলে মরদেহ কার্টুনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় নিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ক্রাইম প্রিভেনশন (উত্তর) বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থেকে এইচএসসি পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ জন্য তিনি ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে কল পেয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর রাকিবের পরিবারের কাছে বিভিন্ন ফোন নম্বর ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ছেলেকে জীবিত ফেরানোর আশায় পরিবার চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা পাঠায়। ঘটনার পর রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, জিডির পর তদন্তে মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে মামুনকে শনাক্ত করে পুলিশ। গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানায়, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ঘটনার দিন হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে আসতে বলে সে। পরে তাঁকে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নিয়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য রাকিবের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়।

Untitled

পরে মরদেহ কার্টনে ঢুকিয়ে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায় মামুন। সেখান থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজ বাড়িতে পৌঁছে ১৭ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের সুপারি বাগানে গর্ত করে কার্টনসহ মরদেহটি মাটিচাপা দেয়।

মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই স্থান থেকে কার্টুন ভর্তি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাকিবের বড় ভাই জীবন মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, মুক্তিপণের অর্থ কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এমআইকে/এসআই