জেলা প্রতিনিধি
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
কৃষি কাজে কোনো লজ্জা নেই উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, মাঠে যেতে হবে এবং নিজের ফসল নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। আমরা গরুর দুধ খাই, মাংস খাই, তাহলে গরুর গোবর ফেলতে কিসের লজ্জা? সীমিত সম্পদ নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইন্সটিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী চলমান কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও উর্বর একটি স্থান। এখানকার মতো মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না এবং এদেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। কিন্তু ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের (পেস্টিসাইড) ব্যবহারের কারণে আজ দেশের বহু মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার একটি বড় অংশই কৃষক- এমনটাই বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে। আগামীর প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে। পৃথিবীতে খাবারের অভাব না থাকলেও ‘সেফ ফুড’ বা নিরাপদ খাদ্যের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।
কৃষি পণ্যের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার কৃষি পণ্যকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আমরা স্বপ্ন দেখছি, বাংলাদেশ একদিন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এখনো আমাদের কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটো আমদানি করতে হয়।
তবে সে দিন বেশি দূরে নয়, যেদিন এসব পণ্য আর আমদানি করতে হবে না, বরং আমরাই তা রপ্তানি করব, ইনশাআল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে বাড়ি গিয়ে মা-বাবাকে মাঠে সহযোগিতা করছে এই দৃশ্য তাঁকে দারুণভাবে আশাবাদী করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রজেক্ট ঘুরে দেখেন এবং তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ (কি নোট পেপার) উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।
মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে কুমিল্লা টাউনহলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের ও লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরী’সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসআই