নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
অনুসন্ধানী সাংবাদিক কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।
একই সঙ্গে সংগঠনের সাবেক এই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় নাম অন্তর্ভুক্তির পেছনে যারা জড়িত তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক কামরুজ্জামান খান ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার।
মানববন্ধনে ক্র্যাবের নেতারা অভিযোগ করেন, কামরুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, ‘কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় কীভাবে তাকে মামলায় আসামি করা হলো, তা তদন্ত করে বের করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মামলা দায়েরের আগে যথাযথ তদন্ত করা হয়েছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ’ পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১০ দিনের মধ্যে মামলায় কামরুজ্জামান খানের নাম বাদ না দিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম লাবলু বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে অতীতেও সাংবাদিকদের রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও একজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘কোনো মামলা দায়েরের আগে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করা হয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তাহলে কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সেই তদন্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ’ তিনি মামলাটি কীভাবে ও কার প্ররোচনায় হয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানান।
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহর সঞ্চালনায় সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক নিহাল হাসনাইন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আরিফ, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র সদস্য ইকরামুল কবির টিপু, ইসমাইল হোসেন ইমু, সাইফুল ইসলাম, নাদিয়া শারমিন, সাইফুল জুয়েল, গোলাম মোস্তফা ধ্রুব, সুশান্ত সাহা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সংগঠনের সাবেক সভাপতি এস এম আবুল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ, সাবেক সহ-সভাপতি সাব্বির মাহমুদসহ বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা কারও প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু নন। তারা দেশ ও মানুষের স্বার্থে সত্য তুলে ধরার কাজ করেন। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা উচিত নয়। মামলায় কামরুজ্জামান খানকে আসামি করার আগে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন ছিল। যথাযথ তদন্ত ছাড়া তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ক্র্যাবের নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাকে কোনো ধরনের হয়রানি না করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
একেএস/এএম